ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপানের বিরুদ্ধে ছয়জন বৈধ শিক্ষার্থীকে রুম ছাড়ার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগ তুলেছেন ওই রুমের এক শিক্ষার্থী। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রভোস্ট ওই রুমটি হল সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদকের (জিএস) জন্য খালি রাখতে বলেছেন। তবে প্রভোস্ট দাবি করেছেন, তিনি শিক্ষার্থীদের বাধ্য করেননি, কেবল প্রস্তাব করেছিলেন।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী মাহমুদ রিদওয়ান জানান, রবিবার সকালে প্রভোস্ট তাদের রুমের ছয়জনকে অফিসে ডেকে বলেন, ‘এই রুমটা ভিপি-জিএসের জন্য বরাদ্দ থাকবে, তাই তোমাদের রুম ছাড়তে হবে।’ কারণ জানতে চাইলে প্রভোস্ট বলেন, ‘এটা এ এফ রহমান হলের দীর্ঘদিনের প্রথা।’
রিদওয়ান আরও বলেন, ‘এখন যদি ছয়জনের রুমে দুইজনকে থাকতে দেওয়া হয়, সেটা অবশ্যই বৈষম্য। প্রভোস্ট স্যার আমাদের অবৈধভাবে থাকার অভিযোগও তুলেছেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপান বলেন, ‘৩১৮ নম্বর রুমে দুটি পার্টিশন আছে। আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম, প্রতিটি পার্টিশনে কতজন থাকছে এবং কেউ অবৈধভাবে আছে কি-না।’
তিনি আরও বলেন, ‘হল সংসদের প্রথম বৈঠকে অভিযোগ এসেছিল যে, ভিপি ও জিএসের কক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটায়। তাই ওই কক্ষগুলো আলাদা করে দেওয়া যায় কি-না, এমন প্রস্তাব উঠেছিল।’
প্রভোস্ট বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের বলেছিলাম, যদি তারা রাজি হয়, তাহলে তাদের পছন্দমতো কক্ষে স্থানান্তর করা হবে। কিন্তু রাজি না হলে কাউকে রুম ছাড়তে বাধ্য করার কোনও প্রশ্নই আসে না।’
হলের ভিপি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সিঙ্গেল সিট চাইনি। শুধু প্রস্তাব করেছিলাম, যদি ২ জনের রুমে স্থানান্তর সম্ভব হয়, তাহলে ভিপি-জিএস সেখানে উঠতে পারবে।’
তিনি যোগ করেন, ‘প্রভোস্ট স্যারও বলেছিলেন, যদি রুমের শিক্ষার্থীরা রাজি হয়, তবেই বদলি করা যাবে। আমরা কখনও বলিনি যে আমাদের জন্য রুম দিতেই হবে।’
রফিকুল বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা নানা বিষয়ে আসেন। যে রুম নিয়ে বিতর্ক, সেটি আসলে আগেও ভিপি-জিএসের রুম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।’
প্রসঙ্গত, এই হলের বর্তমানে অধিকাংশ রুমে আটজন করে শিক্ষার্থী থাকেন।