পড়ন্ত বিকালে মাথায় সাদা ক্যাপ। চোখে কালো সানগ্লাস। সাদা হিজাব পরা গিসা বাইবরদির স্নিগ্ধ হাসি যেন ‘ইরানি গোলাপের-ই’ সুবাস ছড়ালো। উপলক্ষও ছিল তেমন। খানিক আগেই ২৪তম এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপের মেয়েদের দলগত কম্পাউন্ড ইভেন্টের ব্রোঞ্জ নিষ্পত্তির ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়েছে ইরান। এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম পদক নিশ্চিতের পর ইরানি মেয়েদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঢাকা স্টেডিয়ামে হেমন্তের শেষ বিকালের আলো ইরানি আর্চারদের চেহারায় পড়তেই যেন ঝিলিক দিয়ে উঠছিল। টার্গেট বোর্ড থেকে তির তুলে আনার পর ডাগ আউটে ফিরতেই কোচ ও স্টাফেরা জড়িয়ে ধরলেন গিসাসহ অন্য মেয়েদের। ইরানের এই দলে গিসা ছাড়াও খেলেছেন ফাতিমা বাঘেরি ও শিভা বখতিয়ারি। গিসা এর আগে এশিয়ান আর্চারিতে দুবার পদক জিতলেও ফাতিমা ও শিভার জন্য এটা প্রথম পদক জয়ের ঘটনা। স্বাভাবিকভাবেই গিসার চেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত ছিলেন এই দুজন।
তেহরানের আর্চার গিসা পদক জয়ের আগের মুহূর্তের অনুভূতির কথা বললেন ম্যাচ শেষে। রোমাঞ্চিত গিসার কথা, ‘আমাদের এই ফলে আমি খুব খুশি। আসলে আমরা সবাই ভালো খেলেছি। যদিও এখানে বাংলাদেশের সবাই চীৎকার করছিল। আমরা তবু ভালো খেলার চেষ্টা করেছি।’
এর আগে ঢাকায় এশিয়ান আর্চারিতে রুপা ও ব্রোঞ্জ জেতেন তিনি। ঢাকা সব সময় নিজের জন্য পয়া ভেন্যু মনে করেন গিসা, ‘সত্যি ঢাকা আমার জন্য সৌভাগ্যের ভেন্যু।’
১২ বছরের আর্চারি ক্যারিয়ারে গিসার একটাই স্বপ্ন অলিম্পিকে পদক জেতা, ‘শুধু আমি নই, যে কোনও অ্যাথলেটের জন্যই এটা অনেক বড় স্বপ্ন।’
ফাতিমা বাঘেরি মাত্র আড়াই বছর হলো আর্চারি খেলছেন। প্রথমবার কোনও আন্তর্জাতিক পদক জিতে খুশি তিনি, ‘শেষ শটের সময় আমি মোটেও নার্ভাস ছিলাম না- শুধু সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। একটু প্রেসার ছিল যদিও। তবে শেষ পর্যন্ত আমার প্রথম মেডেল জিতে রোমাঞ্চিত।’
ফাতিমা জানালেন তার ছোট বোনও আর্চারি খেলেন। খেলার পাশাপশি ইরানের একটি কলেজে শরীর বিজ্ঞানে স্নাতক পড়ছেন। দলের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা শিভা বখতিয়ারি। তিনি জানালেন ইরানের জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া অনেক কঠিন। পদক জয়ের পর বললেন, ‘ইরানের টিমে জায়গা পাওয়া সহজ না। এখানে অনেক ভালো মানের আর্চার আছে। দলে ঢুকতে প্রচুর লড়াই করতে হয়। প্রচুর কম্পিটিশন। সিলেকশন প্রসেসও খুব কঠিন। ন্যাশনাল টিমের ক্যাম্পে পারফরম্যান্স শো করতে হয়।’
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের শহর আমেদান থেকে উঠে আসা এই আর্চার স্বপ্ন দেখেন অলিম্পিকে খেলার। সেই যাত্রায় একটু একটু করে এগিয়ে যেতে চান তিনি। শরীর বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ফাতিমা হোক বা আমেদানের শিভা—সবার চোখেই এখন একটাই বড় স্বপ্ন- অলিম্পিকের পোডিয়াম।