আপনার সন্তান কথা বলতে শেখার পরপরই শুরু হয় ‘এটা কী’ ‘ওটা কী’ প্রশ্ন। এরপর আপনি সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটির সম্মুখীন হন তাহলো, ‘কেন’। এটা এমন কেন, ওটা ওমন কেন, ওখানে যাব কেন, এটা খাব না কেন?
একই প্রশ্ন বারবার শুনতে শুনতে অনেক সময় বিরক্ত লাগতে পারে, কিন্তু এর পেছনে আছে গুরুত্বপূর্ণ মানসিক ও বিকাশজনিত কারণ।
‘কেন’ প্রশ্নে দিশেহারা
যখন আপনি কোনও প্রি-স্কুল বয়সী (৩–৫ বছরের) বাচ্চার সঙ্গে সময় কাটান, তখন নিশ্চয়ই সেই বিখ্যাত প্রশ্নবাণের মুখোমুখি হয়েছেন, আচ্ছা, ‘আকাশ নীল কেন?’, ‘আমি চকলেট খেতে পারবো না কেন?’। একটা প্রশ্নের উত্তর শেষ করার আগেই তারা পরের প্রশ্নে চলে যায়! এটা প্রথমে খুব এনজয় করলেও আপনি যখন দেখবেন, ঘণ্টায় ১০৭টা প্রশ্ন করে ফেলেছে আপনার সন্তান, তখন? এই যে সংখ্যাটা বললাম সেটা মোটেও অতিরঞ্জন নয়! এক গবেষণা বলছে, ১৪ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১০৭টি প্রশ্ন করে। তার বেশিরভাগই কেন সংক্রান্ত।
২ থেকে ৩ বছর বয়সে, বাচ্চাদের মস্তিষ্কে দ্রুত নতুন নতুন সংযোগ তৈরি হতে থাকে। তারা শিখতে শুরু করে, পৃথিবীতে কোন জিনিসটা কীভাবে কাজ করে। আর একবার যখন তারা বুঝে ফেলে যে, বড়রা তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, তখন তারা আরও বেশি প্রশ্ন করতে শুরু করে। তারা মনে করে, প্রশ্নগুলোর উত্তরগুলো জেনে নিলেই সে শিখে যাবে বড়দের মতোই।
সতর্কতা
মনে রাখবেন ‘কেন’ প্রশ্ন করার মধ্য দিয়ে সে কারণ ও ফলাফল মেলাতে শেখে। কোন বিষয়টা কেন ঘটছে, সেটা বের করার জন্য সেই বয়সে আপনাকে বা আশেপাশের মানুষের বাইরে তার কাছে আর কোনও সোর্স নেই। কোনভাবেই তাকে সেই আবিষ্কার করা থেকে থামাবেন না। প্রশ্ন করতে দিন। আপনি দীর্ঘ সময় উত্তর দিয়ে ক্লান্ত হয়ে এলে পরিবারের কাউকে দায়িত্ব দিন। তবু প্রশ্ন করা থেকে বাচ্চাদের রুখে দেবেন না।