দক্ষিণপন্থী-সাম্রাজ্যবাদী শক্তির উত্থান ঠেকাতে বাম প্রগতিশীল শক্তির ঐক্য দরকার: সিপিবি

দক্ষিণপন্থী-সাম্রাজ্যবাদী শক্তির উত্থান ঠেকাতে বাম প্রগতিশীল শক্তির ঐক্য দরকার: সিপিবি

দক্ষিণপন্থী শক্তির উত্থানের পাশাপাশি সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তি বাংলাদেশের ওপরে নতুন করে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেছেন, ‘এ রকম একটা জায়গায় বাম প্রগতিশীল শক্তির ঐক্য যেমন দরকার, তেমনি দেশবাসীরও একটা ঐক্য গড়ে তোলা দরকার, যাতে আমরা বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করে এগিয়ে যেতে পারি।’

আজ শনিবার সন্ধ্যায় সিপিবির চার দিনব্যাপী ত্রয়োদশ কংগ্রেসের দ্বিতীয় দিনের সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুহিন হোসেন প্রিন্স। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সিপিবির এবারের কংগ্রেসের উদ্বোধন করা হয়।

কমিউনিস্ট পার্টির আন্দোলন–সংগ্রাম দেখে দলটির সঙ্গে যুক্ত হতে বিভিন্ন বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল আগ্রহ পোষণ করছে বলে সাংবাদিকদের জানান রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, ‘আমরা এদের সবাইকে বলছি যে বিভিন্ন জেলায় আপনারা থাকেন। আন্দোলন–সংগ্রামে যোগ দেন। তার মধ্য দিয়ে আমরা একাত্ম হব।’

কংগ্রেসের ফলে কমিউনিস্ট পার্টিকে ঘিরে আগ্রহ লক্ষ করছেন জানিয়ে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কংগ্রেসকে ঘিরে আমরা এটাও লক্ষ করেছি, অনেক ব্যক্তি একসময় পার্টি করতেন, ইনঅ্যাকটিভ (অকার্যকর) হয়েছিল, তারা এখন অনেক বেশি আগ্রহ প্রকাশ করছেন। গতকাল আমাদের এখানে ব্যাপক মানুষ, আমাদের সমর্থক শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নিয়েছিলেন এবং আজকেও অনেকে এই আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছেন। তারা আরও বেশি সক্রিয় অবস্থায় পার্টিতে থাকতে চায়।’

মুক্তিযুদ্ধের ৫৪ বছর পরও গণতন্ত্র ও বৈষম্যমুক্তির আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি উল্লেখ করে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক বলেন, সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে বাংলাদেশে একটা সামাজিক বিপ্লব করতে হবে এবং বিকল্প শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসাতে হবে। এর জন্য কমিউনিস্ট পার্টি, বাম শক্তি, বাম গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল অন্যান্য শক্তি, এর বাইরে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এমন বলয় গঠন করতে হবে যে এখন গণতন্ত্র সুরক্ষার আন্দোলন করবে, বৈষম্যমুক্তির আন্দোলন করবে এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকবে বাম গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল শক্তিকে ক্ষমতায় বসানো।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে কংগ্রেসের সভাপতিমণ্ডলী, অডিট কমিটি, প্রস্তাব বাছাই কমিটি, ক্রেডেনশিয়াল কমিটি এবং কংগ্রেসের স্পোকস পারসন নামের মোট পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সিপিবির এবারের ত্রয়োদশ কংগ্রেস সফল করতে কাজ করবে। এ ছাড়া এদিন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্টের ওপর আলোচনা হয়েছে।

বিভিন্ন জেলার অন্তত ৪৪ প্রতিনিধি ইতিমধ্যে আলোচনায় অংশ নেন। এসব আলোচনায় জেলার সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে করণীয় বিষয়ে অভিমত তুলে ধরেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, মিডিয়া সেলের প্রধান লাকী আক্তার।

সিপিবির ত্রয়োদশ কংগ্রেসে অংশ নিচ্ছেন জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত ৫২৫ জন প্রতিনিধি ও ২৬ জন পর্যবেক্ষক। এবারের সম্মেলনে পার্টির প্রবীণ নেতাদের মধ্যে যাঁরা বয়সে ৭০ বছর পেরিয়েছেন বা একটানা ৩০ বছর সিপিবির কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন, তাঁদের সম্মাননা দেওয়া হয়। গতকাল তাঁদের হাতে ফুল, শুভেচ্ছা বার্তা ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের কংগ্রেসে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে রণকৌশল রচনা, আগামী দিনের সংগ্রামমূলক কর্মকাণ্ড নির্ধারণ এবং কর্মসূচি প্রণয়ন করা হবে। এরই অংশ হিসেবে তিন মাস আগে সব শাখা, থানা, উপজেলা ও জেলায় নীতি-প্রস্তাব ও কর্মসূচির খসড়া পাঠানো হয়। সেসব আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতেই কংগ্রেসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin