কাতারে ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরই প্রেক্ষাপটে কাতারের রাজধানীতে জড়ো হচ্ছেন আরব ও ইসলামি দেশগুলোর নেতারা। সোমবার শুরু হবে জরুরি আরব-ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে হামাস নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে দোহায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে পাঁচ হামাস সদস্য ও একজন কাতারি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। তবে যাদেরকে নিশানা করা হয়েছিল তারা জীবিত আছেন। এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল-আনসারি বলেছেন, সম্মেলনে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে একটি প্রস্তাব খসড়া করা হবে। এটি আবারও প্রমাণ করে ইসরায়েল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ চালাচ্ছে। রবিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে খসড়াটি চূড়ান্ত হবে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি বলেছেন, এই হামলা পুরো অঞ্চলকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। কাতার যৌথ প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে এর জবাব দেবে।
সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)-এর ৫৭ সদস্য রাষ্ট্র ও আরব লিগের ২২ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা। এখন পর্যন্ত উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি শনিবার বলেছেন, ইসলামি সরকারগুলোকে এখন যৌথ অপারেশন রুম গড়ে তুলতে হবে, শুধু বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সম্মেলন থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষার বিবৃতি নিশ্চিতভাবেই আসবে। তবে এর বাইরে আরব-ইসলামি দেশগুলো কূটনৈতিক সম্পর্ক কমানো, বাণিজ্যিক সীমাবদ্ধতা আরোপ কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের পথে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রবিবার তেল আবিবে পৌঁছেছেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। আলোচনায় পশ্চিম তীরের বড় অংশ দখলের পরিকল্পনা থাকছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত আগেই সতর্ক করে বলেছে, এটি হবে একটি ‘রেড লাইন’, যা আব্রাহাম চুক্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশও এখন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ থেকে পিছিয়ে গেছে।