জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিজেদের দলের প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ দাবি করে আসছে। ‘শাপলা’ ছাড়া দলের নিবন্ধন গ্রহণ করবে না বলেও দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা’ না থাকায় এই প্রতীক দেওয়া সম্ভব না। এমন পরিস্থিতির মধ্যে এবার দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা চেয়ে ইসির কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ কংগ্রেস। প্রতীকের তালিকায় শাপলা গেজেটভুক্ত করে অবিলম্বে দলটিকে ‘ডাব’ প্রতীকের পরিবর্তে শাপলা বরাদ্দ দিতে বলা হয়েছে চিঠিতে।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর চিঠি দিয়ে এই দাবি জানিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ কংগ্রেস দলীয় প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ ব্যবহার করে। দলের প্রথম প্রচারপত্রে ন্যাচারাল নকশায় শাপলা ব্যবহার হয়। পরে শৈল্পিক ডিজাইন করে সব কাগজপত্রে শাপলা দলীয় প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ২০১৭ সালে নিবন্ধনের আবেদন করার সময় নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়, শাপলা জাতীয় প্রতীক এবং এটি দলীয় প্রতীক হতে পারে না। নির্বাচন কমিশনের উক্ত কথায় আমরা ‘বই’ প্রতীক প্রস্তাব করে আবেদন জমা দেই, যদিও আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া কাগজপত্র ও দলীয় লোগোতে তখনো শাপলার ছবি ছিলো।
চিঠিতে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের রায় অনুসারে যখন বাংলাদেশ কংগ্রেসকে নিবন্ধন দেওয়া হয়, তখন আমরা ‘বই’ প্রতীক দাবি করি। কিন্তু গেজেটভুক্ত প্রতীকের বাইরে প্রতীক দেওয়া সম্ভব নয় বলে আমাদের ‘ডাব’ প্রতীক নিতে বাধ্য করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, ধানের শীষ, শাপলা, পাটপাতা ও তারা —এই চারটি স্বতন্ত্র বস্তুর সমন্বয়ে প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক নির্ধারিত। চারটি বস্তুর মধ্যে ধানের শীষ ও তারা গেজেটভুক্ত করে যথাক্রমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (জেএসডি) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র হিসেবে গেজেটভূক্ত করে যেহেতু দুটি রাজনৈতিক দলকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেহেতু অন্য স্বতন্ত্র বস্তু হিসেবে শাপলাকে গেজেটভুক্ত করে রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ দিতে কোনো আইনগত বা নৈতিক প্রতিবন্ধকতা নেই।
ইসিতে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি কোনো কোনো রাজনৈতিক দল থেকে দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা চাওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রথম দাবিদার বাংলাদেশ কংগ্রেসকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এমওএম/এমএমকে/জেআইএম