দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, দুদকের দাঁত ও নখ যতটা শার্প হওয়ার কথা ছিল, এখনও ততটা শার্প হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘ দুদকের দাঁত ও নখ মাঝামাঝি পর্যায়ে আছে। আশা করি, দুদক দাঁত ও নখ সর্বস্ব একটি পুরোপুরি ভালো প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।’’
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুদকের ২১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদকের ওপর রাজনৈতিক কোনও চাপ আসে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘দুর্নীতির অনুসন্ধান ও তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে আগামীতে কেউ চাপ প্রয়োগ করলে তাদের নাম প্রকাশ করে দেওয়া হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতি প্রতিরোধ কিংবা কমানোর একক দায়িত্ব দুদকের নয়। যদি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই নিজস্ব অডিট রিপোর্ট হয়। সেটার ভিত্তিতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়— তাহলে দুদক পর্যন্ত আসতো না।’’
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘দুর্নীতির সফল প্রতিরোধের একটা দেশের কথা চিন্তা করলে— সবার আগে চলে আসে সিঙ্গাপুরের নাম। সিঙ্গাপুরের প্রত্যেকটা অফিস দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করে। এর বাইরে আমাদের মতো একটা প্রতিষ্ঠান আছে— যাদের কাজ হচ্ছে একটু দেখাশোনা করা। এর বাইরে তাদের আর কোনও কাজ নাই।’’
দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘‘সিলেটে দুদকের বিভাগীয় অফিস উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রশ্ন রেখে এসেছি। এটা আনন্দের নাকি দুঃখের বিষয়। যদিও কাজটা আমি করে এসেছি, কিন্তু মনে হয়েছে— এটা একটা দুঃখের ব্যাপার। সিলেটের মতো পূণ্যভূমিতে যদি দুদকের একটা বড় অফিস করতে হয়, তাহলে সেটা কীসের ইঙ্গিত দেয়। এই ইঙ্গিত হচ্ছে দুর্নীতি বাড়ছে।’’
দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, ‘‘জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের হলফনামা খতিয়ে দেখতে দুদকের একটি কমিটি গঠনেরও চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। তবে সরকার বা নির্বাচন কমিশন যদি ঘোষণা দিতো— যারা প্রার্থী হবেন, তাদেরকে আগে দুদকে সম্পদের হিসাব দাখিল করতে হবে। তাহলে ভালে হতো। তবে দুদকের যতটুকু শক্তি সামর্থ্য আছে, সেটা দিয়ে নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি প্রতিরোধে চেষ্টা করা হবে। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও যাচাই অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক কোনও চাপ আসলে সেক্ষেত্রে তাদের নাম প্রকাশ করে দেওয়া হবে।’’
মতবিনিময় সভায় দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ, সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন, মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ ও তথ্য প্রযুক্তি) আবদুল্লাহ-আল-জাহিদসহ দুদকের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দুদকভিত্তিক সাংবাদিকদের সংগঠন র্যাকের সভাপতি আলাউদ্দিন আরিফ।