ফ্রান্সে গত দুই বছরের কম সময়ে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) তার ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী খুঁজছিলেন। তার আশা, তার মনোনীত পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী সংকটে জর্জরিত আইনসভা পেরিয়ে একটি বাজেট পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ম্যাক্রোঁর দপ্তর বুধবার জানিয়েছে, তিনি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। এর আগে পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু গত দুই দিন ধরে ফ্রান্সের কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গভীর রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং ফ্রান্সের বিশাল ঘাটতি নিয়ে চিন্তিত তারা কঠোর ব্যয়সংকোচন বাজেটের দাবি জানাচ্ছে, যা পাস করাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সরকারের মুখপাত্র অরোর বার্জে আরটিএল রেডিওকে বলেন, “প্রশ্ন হচ্ছে, যথেষ্ট দায়িত্বশীল মানুষ আছে কি না। আমি মনে করি, এটাই শেষ সুযোগ।”
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর লেকোর্নু বুধবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, পদত্যাগের পর ম্যাক্রোঁর অনুরোধে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাতে তিনি জানতে পারেন, অধিকাংশ আইনপ্রণেতা আগাম সংসদ নির্বাচনের বিপক্ষে এবং বছরের শেষ নাগাদ বাজেট পাস করার একটি কঠিন হলেও সম্ভাব্য পথ রয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো ম্যাক্রোঁর ২০২৩ সালের পেনশন সংস্কার, যার ফলে অবসরের বয়স ধীরে ধীরে ৬২ থেকে ৬৪ বছরে উন্নীত হচ্ছে। বামপন্থিরা এ আইন বাতিল বা স্থগিতের দাবি জানিয়েছে।
এ মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অটল রয়েছে। কে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন সে বিষয়ে এখনও কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
সোশ্যালিস্ট পার্টি বলেছে, ম্যাক্রোঁর উচিত একজন বামপন্থি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা। এদিকে বিদায়ী সরকারের অংশ- রিপাবলিকানরা দিয়েছে, তারা কোনও বামপন্থী প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করবে না।
চরম-বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবাউডের নেতা ম্যানুয়েল বম্পার আবারও ম্যাক্রোঁর পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। ফার-রাইট ন্যাশনাল র্যালির সভাপতি জর্ডান বারডেলা নতুন সংসদ নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আর প্যারিসের সাধারণ মানুষ আশা করছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন দায়িত্বে থাকলে অন্তত কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
এই রাজনৈতিক সংকট আর্থিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তবে বুধবার ফ্রান্সের বন্ড বাজার আগের দিনের কিছুটা ইতিবাচক গতি ধরে রেখেছিল। আশা করা হচ্ছে, দেশটি আগাম সংসদ নির্বাচন এড়িয়ে একটি বাজেট চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।