এক নারী উদ্যোক্তার সিলেট ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে অবস্থিত দুটি প্রতিষ্ঠান নিয়ম বহির্ভূতভাবে সিলগালা করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বেবিচকের বিরুদ্ধে। ওই নারী উদ্যোক্তার নাম হাসিনা আহমেদ। টার্মিনাল চয়েজ নামে প্রতিষ্ঠানগুলোতে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে সিলগালা করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিকের অনুপস্থিতি ও ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিবাদ ও প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টাসহ কয়েকটি দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সৈয়দপুর ও একই বছরের ২৮ মে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহির্গমন লাউঞ্জে বেবিচকের যথাযথ নিয়ম মেনেই জায়গা লিজ পান টার্মিনাল চয়েসের স্বত্বাধিকারী হাসিনা আহমেদ। তিনি সিলেটে একটি কফিশপ, একটি কুটিরশিল্প ও সৈয়দপুরে একটি কফিশপের প্রতিষ্ঠান দেন; যার নাম দেন টার্মিনাল চয়েস।
অভিযোগে জানা গেছে, দুই এয়ারপোর্টের এই তিন স্থানের বরাদ্দ শেষ হয় ৩০ জুন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী তিন মাস আগেই বরাদ্দ বৃদ্ধির আবেদন করতে হয়। সে অনুযায়ী মার্চেই বেবিচকে আবেদন করেন হাসিনা আহেমদ। তার সেই আবেদনে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক ও সৈয়দপুর বিমনাবন্দরের ব্যবস্থাপক সুপারিশ করেন, প্রতিষ্ঠানটির কাছে কোনও দেনা-পাওনা নেই। বরাদ্দ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী জানতে পারেন তার বরাদ্দ বৃদ্ধি নাও করা হতে পারে। এমন অবস্থায় তিনি এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন। আদালত রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতিবস্থা জারি করেন। বেবিচক এ আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার জজ আদালতে গেলে ভুক্তভোগীর রিট খারিজ করে দেন। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী চেম্ববার জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে পূণরায় রিট পিটিশন করেন। এই রিট পিটিশনের শুনানি আগামী ১ ডিসেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাতে কর্তৃপক্ষ দুই বিমানবন্দরের তিন প্রতিষ্ঠানেই সিলগালা করে দেন।
হাসিনা আহমেদ অভিযোগে বলেন, আমি ২০২৩ সালে ওই তিনটি স্থান যথাযথ নিয়ম মেনেই বরাদ্দ পাই। এরপর অনেক টাকা খরচ করে আমি ডেকোরেশন করে সেটি চালু করি। বেবিচকের ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ মিলে এক বছরে সেই টাকা উঠানো অসম্ভব। আমি সেই জায়গা থেকেই বরাদ্দ বৃদ্ধির আবেদন করি। আমার কাছে বেবিচক কোনও টাকা-পয়সাও পাবে না। কিন্তু তারা অজ্ঞাত কারণে আমাকে আর সেখানে রাখবে না। এ কারণে আমি আদালতে গেছি। আদালতে এখনও বিষয়টি বিচারাধীন।
তিনি অভিযোগ করেন, বেবিচকের কিছু কর্মকর্তা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেনস্তা করার জন্য এ ধরনের কাজ করেছেন। সিলগালাকরার এক-দুই ঘণ্টা আগে আমাকে জানানো হয়। আমি ঢাকা থেকে কীভাবে এই সময়ের মধ্যে সৈয়দপুর ও সিলেটে যাবো? তারা কোনও ধরনে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়াই সন্ত্রাসী কায়দায় আমার প্রতিষ্ঠানে তালা মেরে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানে আমার কোটি টাকার মালামাল রয়েছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে আবারও আদালতে যাবো। একইসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অ্যান্ড কমার্স, ঢাকা উইমেন চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ও মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
তিনি বলেন, আমি একজন নারী উদ্যোক্তা। আমার সঙ্গে বেবিচক কেন এ ধরনের অন্যায় আচরণ করছে। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে তাদের।
প্রসঙ্গত, এর আগে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ ১৬ প্রতিষ্ঠানের লিজ বাতিল করে বেবিচক কর্তৃপক্ষ। সেটি নিয়েও আদালতে মমলা চলমান। বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্ছেদ করা হলেও পুনরায় এখন পর্যন্ত লিজ দিতে পারেনি কর্তপৃক্ষ।
এদিকে এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) কাওছার মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনেই সিলগালা করা হয়েছে। এখানে আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি।