বন বিভাগের বিট কার্যালয় ঘেঁষে বাঁশঝাড়। দুই দিন ধরে সেখানে একটি চশমাপরা হনুমান অবস্থান করছে। ওই স্থান ছেড়ে আর কোথাও যাচ্ছে না। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা, বন্য প্রাণীটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হতে পারে। ঘটনাটি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের।
লাঠিটিলা বিট কর্মকর্তা মো. ফয়ছল মিয়া মুঠোফোনে বলেন, গতকাল শনিবার সকালে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছিল। তখন তাঁদের কার্যালয়ের পাশে বাঁশঝাড়ে চশমাপরা হনুমানটির দেখা পাওয়া যায়। হনুমানটি একটি ডালে কোনোমতে ঝুলে আছে। খুবই দুর্বল দেখা যাচ্ছে। তাঁদের ধারণা ছিল, কিছুক্ষণ পর হয়তো প্রাণীটি সেখান থেকে চলে যাবে, কিন্তু আজ রোববারও একই দৃশ্য দেখা যায়।
বিট কর্মকর্তা বলেন, লাঠিটিলা বনে বেশ কিছু চশমাপরা হনুমান আছে। বনের ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টানানো। হনুমানটি চলাচলের সময় বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে শরীরের কোথাও আঘাত পেতে পারে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বিষয়টি মৌলভীবাজারের বন্য প্রাণী বিভাগের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।
বন বিভাগের স্থানীয় সূত্র জানায়, লাঠিটিলা বনে বিদ্যুতের লাইন টানানোর পর কয়েক বছরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একাধিক চশমাপরা হনুমান মারা গেছে। এ বিষয়ে কথা বলতে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার সদর কার্যালয়ের রেঞ্জ কর্মকর্তা গোলাম সারওয়ারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চশমাপরা হনুমান মহাবিপন্ন প্রাণী। এদের কালো মুখমণ্ডলে শুধু চোখের চারদিকে সাদা। দেখলে মনে হয় যেন চশমা পরে আছে। দেশের তিন প্রজাতির হনুমানের মধ্যে আকারে এরাই ছোট। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনের বাসিন্দা এরা। এরা বৃক্ষবাসী, কখনো মাটিতে নামে না। ঘুম, চলাফেরা, খাবার সংগ্রহ, খেলাধুলা, গা চুলকানো, বিশ্রাম—সবকিছু গাছেই সম্পন্ন করে। সচরাচর ১০ থেকে ১৫টি একটি দলে বিচরণ করে।
চশমাপরা হনুমান গাছের ডালে ডালে ঘুরে পাতা, পাতার বোঁটা, ফুল, ফল ও কুঁড়ি খায়। উদ্ভিদের পরাগায়ন ও বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে। বাচ্চারা দীর্ঘ সময় ধরে খেলাধুলা করে। মা বাচ্চাকে বুকে নিয়ে এক গাছ থেকে অন্য গাছে যখন লাফিয়ে চলে। পাতা ও গাছে জমে থাকা পানি ও শিশির পান করে তৃষ্ণা মেটায়। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস প্রাণীটির প্রজননকাল।