চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের তিনটি কন্টেইনারে আমদানি নিষিদ্ধ ঘনচিনি (সোডিয়াম সাইক্লামেট) আটক করেছে। ঘোষণা ছিল সোডা অ্যাশ লাইটের, কিন্তু আমদানি করা হয় স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ কৃত্রিম মিষ্টিকারক সোডিয়াম সাইক্লামেট—যা বাংলাদেশে ‘ঘনচিনি’ নামে পরিচিত।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার এইচ এম কবির এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ঢাকার মতিঝিলের এইচ পি ইন্টারন্যাশনাল চীন থেকে গত ১৬ আগস্ট সোডা অ্যাশ হিসেবে ঘোষিত তিনটি কন্টেইনার দেশে আনে। চালানটি খালাসের জন্য পাঠানো হয় চট্টগ্রামের সিটি গেট উত্তর কাট্টলীর গোল্ডেন কন্টেইনার লিমিটেড টার্মিনালে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর চালানটির খালাস স্থগিত করে। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর কায়িক পরীক্ষা শেষে সন্দেহজনক নমুনা পাঠানো হয়— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোপ্রযুক্তি কেন্দ্র, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিজস্ব ল্যাবে। তিনটি ল্যাবের পরীক্ষায় সোডিয়াম সাইক্লামেটের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
পরবর্তীকালে ৬০ হাজার ৪৮০ কেজি নিষিদ্ধ ঘনচিনি আটক করা হয়। পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা, আর প্রযোজ্য শুল্কহার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
উপ-কমিশনার এইচ এম কবির বলেন, “সোডিয়াম সাইক্লামেট সাধারণ চিনির চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি হলেও এটি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বেভারেজ, আইসক্রিম, চকোলেট, কনডেন্সড মিল্ক বা শিশু খাদ্যে এই উপাদান ব্যবহার ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের জটিল রোগের কারণ হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪ অনুযায়ী ঘনচিনি বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য। তাই কাস্টমস আইন ২০২৩-এর বিধান অনুসারে চালানটি জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্র জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই অভিযান বাংলাদেশ কাস্টমসের চলমান কঠোর মনিটরিং ও গোয়েন্দা তৎপরতারই অংশ।