ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট দুইটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিরসনের (দ্বিরাষ্ট্র সমাধান) প্রচেষ্টা থেকেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
স্টারমার বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা পুনর্জীবিত করতে, মহান ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির ঘোষণা দিচ্ছি।
তবে এর মাধ্যমে হামাসকে মোটেও পুরস্কৃত করা হয়নি বলে জোর দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা শাসন ব্যবস্থায় হামাসের কোনও স্থান নেই। এই স্বীকৃতি মোটেও হামাসকে পুরস্কৃত করে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের আন্তরিক চাওয়া হচ্ছে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করা। এটি হামাসের বিদ্বেষপূর্ণ দর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত।
বেশ কিছুদিন ধরেই যখন একাধিক পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির সিদ্ধান্তের কথা জানাচ্ছিল, তখন থেকেই নাখোশ ছিল ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তো বলেই বসেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলে মূলত হামাসকে তাদের ‘পাশবিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য’ পুরস্কৃত করা হবে।
হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের অবিলম্বে মুক্তির ওপর জোর দিয়ে স্টারমার বলেছেন, ব্রিটিশ জিম্মিদের পরিবারের সঙ্গে আমি দেখা করেছি। প্রতিদিন তারা যে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের প্রতিটি মানুষকে ব্যথিত করবে। তাদের সবাইকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।
গাজায় মানবিক পরিস্থিতি আরও সঙ্গিন হয়েছে উল্লেখ করে স্টারমার বলেছেন, সেখানে ধ্বংসযজ্ঞ ও ক্ষুধার জ্বালা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। খাবার ও পানি জোগাড় করতে গিয়েও অনেক মানুষ গাজায় প্রাণ হারাচ্ছেন।
ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হলেও পর্যাপ্ত খাবার সেখানে প্রবেশ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্টারমার। ইসরায়েলি সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, এই নিষ্ঠুর কৌশল ত্যাগ করে সীমান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলি সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, গাজায় ত্রাণ প্রবেশ করতে দিন।
স্টারমার বলেছেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আজ আমরা দেড়শর বেশি দেশের প্রতিনিধিরা একত্র হয়েছি। এটা প্রমাণ করে, ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করা সম্ভব।
সব বিদ্বেষ ভুলে সবাইকে সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরির আহ্বানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের কেবল ঘৃণা পরিত্যাগ করলেই চলবে না, পাশাপাশি বিদ্বেষের সকল রূপ মোকাবিলায় দ্বিগুণ উদ্যমে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি