টানা ২৮ ঘণ্টা ধরে চলছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষার্থীদের অনশন কর্মসূচি। তিন দফা দাবিতে অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন জগন্নাথ (জবি) শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের (বাগছাস) নেতারা।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেখা গেছে, অনশনে অংশ নেওয়া চার শিক্ষার্থীর মধ্যে দুই জন অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনশনস্থলে শাখা ছাত্রদল, শিবির, আপ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংহতি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো– শিক্ষার্থীদের সম্পূরক বৃত্তি কবে থেকে কার্যকর হবে তা স্পষ্ট ঘোষণা করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে এবং ক্যাফেটেরিয়ায় ভর্তুকি প্রদান ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে অনশন শুরু করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম অনশনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (জকসু) হওয়ার আশা রাখা যায়। শিগগিরই শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পাবে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অনশনের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন থেকে কোনও সদুত্তর মেলেনি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
অনশনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা বহুদিন ধরে এই দাবিগুলো জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই অনশনের মতো কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হয়েছি। যতদিন পর্যন্ত দাবি পূরণ না হবে, ততদিন অনশন চলবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।