দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে কেপ ভার্দে। আটলান্টিক মহাসাগরীয় দ্বীপদেশটি নিজেদের মাঠে ইসোয়াতিনিকে ৩–০ গোলে পরাজিত করেছে।
বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করা কেপ ভার্দের চেয়েও ছোট জনসংখ্যার একমাত্র দেশ হলো আইসল্যান্ড। তারা ২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এই জয়ে কেপ ভার্দে পরের বছরের বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা পাওয়া ষষ্ঠ আফ্রিকান দল হয়ে গেল।
এই জয়ের ফলে আফ্রিকার ফুটবল পরাশক্তি ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে‘ব্লু শার্কস’ নামে পরিচিত দলটি তাদের বাছাইপর্বে গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে।
ম্যাচের তিনটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। প্রাইয়াতে আয়োজিত ম্যাচে ৪৮ মিনিটে ডাইলন লিভ্রামেন্তো ছয় গজের বক্সের ভেতর থেকে জালে বল পাঠিয়ে স্বাগতিকদের পক্ষে গোলের সূচনা করেন। কিছুক্ষণ পরই উইলি সেমেদো দুর্দান্ত ভলিতে দ্বিতীয় গোলটি করেন।
অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার স্টোপিরা ইনজুরি সময়ে করেন তৃতীয় গোল। শেষ বাঁশি বাজতেই ১৫ হাজার আসনবিশিষ্ট ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্বাগতিক দর্শকরা।
আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ১০টি দ্বীপের এই দ্বীপপুঞ্জের জনসংখ্যা বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী মাত্র ৫ লাখ ২৫ হাজারের কিছু কম। ১৯৭৫ সালে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর কেপ ভার্দে প্রথমবার বিশ্বকাপে ওঠার চেষ্টা করেছিল ২০০২ সালে।
আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স (আফকন)-এ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেপ ভার্দে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। ২০১৩ সালে অভিষেকেই পৌঁছায় কোয়ার্টার ফাইনাল। ২০২৩ সালেও একই কৃতিত্ব দেখায় তারা। বর্তমানে তারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৭০তম স্থানে রয়েছে।
ফ্রান্সকে রুখে দিয়েছে আইসল্যান্ড
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইউরোপিয়ান অঞ্চলে চোট জর্জর ফ্রান্সকে রুখে দিয়েছে আইসল্যান্ড। ম্যাচটা ড্র হয়েছে ২-২ গোলে। জার্মানি অবশ্য নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। ওয়েলসকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়াম। তাতে ওয়েলসের স্বনিয়ন্ত্রিতভাবে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তাদের এখন খেলতে হবে প্লে-অফ।
চোটের কারণে ফ্রান্সের হয়ে ম্যাচটায় ছিলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। খেলতে পারেননি ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলেও। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ভিক্টর প্যালসনের গোলে তারা পিছিয়ে পড়ে। ঘণ্টা পেরোতেই ক্রিস্টোফার এনকুনকু সমতাসূচক গোল করে ফ্রান্সকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
ক্রিস্টাল প্যালেসের স্ট্রাইকার জঁ-ফিলিপ মাতেতা এরপর দ্বিতীয়ার্ধের মাঝপথে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন। তবে খেলা পুনরায় শুরু হতেই আইসল্যান্ড আবার সমতায় ফিরে আসে। ক্রিস্টিয়ান লিনসন কোনও বাধা ছাড়াই ডিফেন্স ভেদ করে স্কোরে ২–২ সমতা নিয়ে আসেন।
ড্র করলেও ডি গ্রুপে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ফ্রান্স। ৭ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পরেই আছে ইউক্রেন।