রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে হাঙ্গেরিতে বৈঠকে বসবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে মন্তব্য করে ট্রাম্প নিজেই এ কথা বলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, আগস্টের পর হওয়া ফোনালাপ খুব ফলপ্রসূ ছিল। ওয়াশিংটন ও মস্কোর কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসবেন। তবে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, অত্যন্ত খোলামেলা ও বিশ্বাসযোগ্য ফোনালাপের পর বৈঠকের প্রস্তুতি তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে।
পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ যখন হলো, তখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র হাউজ সফরে যাচ্ছেন। পুতিনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে জেলেনস্কিকে শুক্রবার অবহিত করা হবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুতিনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হতে পারে।
এদিকে, কিয়েভকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। জেলেনস্কি বলেন, টমাহকের বিষয়টি শুনেই আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চাইছে ক্রেমলিন।
তবে ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, আমরা নিজেদের ভাণ্ডার খালি করতে পারি না। টমাহক আমাদেরও দরকার, তাই এখনই বলা যাচ্ছে না।
নিজ মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের পর যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে পুতিনের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি। দুদেশের উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা দল আগামী সপ্তাহে বৈঠক করবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সেখানে দেখভালের দায়িত্বে থাকবেন।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এক্স-এ লেখেন, বুদাপেস্টে সম্ভাব্য বৈঠকের খবর বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের জন্য সুসংবাদ।
তিনি আরও বলেন, শান্তির জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, শক্তি ও বিনয়। অহংকার ও যুদ্ধ উসকে দেওয়ার বদলে ইউরোপকে আলোচনার পথে ফিরতে হবে।
আগস্টে বহু আকাঙ্ক্ষিত আলাস্কা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকের মাধ্যমে ট্রাম্প আশা করেছিলেন, রুশ প্রেসিডেন্টকে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি আলোচনায় আনতে পারবেন।