বিশ্বকাপে জয় দিয়ে দারুণ শুরু করলেও টানা দুই ম্যাচে হার নিয়ে মাঠ ছাড়লো বাংলাদেশের মেয়েরা। পাকিস্তানকে হারাতে পারলেও ইংল্যান্ডের পর এবার নিউজিল্যান্ডের কাছে ১০০ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেলো কিউইরা।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) গোয়াহাটিতে দিবারাত্রির ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৫ রান করেন সুজি বেটস ও জর্জিয়া প্লিমার। ইনিংসের অষ্টম ওভারে জর্জিয়া প্লিমারকে সাজঘরে ফেরান রাবেয়া খান। একই ওভারে রানআউট হন সুজি বেটস। কিউইদের স্কোর বোর্ডে আর তিন রান যোগ হতেই অ্যামেলিয়া কারকে বোল্ড করেন রাবেয়া খান। এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় নিউজিল্যান্ড। অধিনায়ক সোফি ডেভিন ও ব্রুক হ্যালিডে চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের জুটি গড়েন। সোফি ২ চার ও ২ ছক্কায় ৮৫ বলে ৬৩ রান করেন। ৫টি বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় হ্যালিডে ১০৪ বলে দলীয় সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন। ম্যাডি গ্রিন ২৮ বলে ২৫ রান, ইসাবেলা গেজ ১৩ বলে ১২ রান ও লিয়া টাহুহু ৪ বলে ১২ রান করেন।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন লেগ-স্পিনার রাবেয়া খান। একটি করে উইকেট পেয়েছেন পেসার মারুফা আক্তার, স্পিনার নাহিদা আক্তার, নিশিতা আক্তার নিশি ও ফাহিমা খাতুন। ২২৭ রানের জবাবে ৩৯.৫ ওভারে ১২৭ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস। উদ্বোধনী দুই ব্যাটার রুবাইয়া হায়দার ও সুমাইয়া আক্তারের মতোই কিউই মেয়েদের পেসের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি আগের ম্যাচের হাফ-সেঞ্চুরিয়ান সোবহানা মোস্তারি। অধিনায়ক জ্যোতি এদিনও ব্যাট হাতে ব্যর্থ। ২৮ বল খেলে ৪ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। ৩৩ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে কোনঠাসা হয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
ফাহিমা খাতুন ৮০ বল খেলে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১ রান এসেছে অতিরিক্ত! এতেই ব্যাটিংয়ের হতশ্রী চেহারা বোঝা যায়। সপ্তম উইকেটে নাহিদা আক্তারকে নিয়ে ৩৩ রানের জুটি গড়েন ফাহিমা খাতুন। এরপর সপ্তম উইকেটে রাবেয়া খানকে নিয়ে ৪৪ রানের জুটি গড়ে হারের ব্যবধান কমিয়েছেন ফাহিমা। রাবেয়া ৩৯ বলে ২৫ রান ও নাহিদা ৩২ বলে ১৭ রান করেন। এছাড়া আর কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
নিউজিল্যান্ডের দুই ডানহাতি পেসার জেস কার ও লিয়া টাহুহু ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন। আরেক ডানহাতি পেসার রোজমেরি মেয়ার ২টি পেয়েছেন। লেগ-স্পিনার অ্যামেলিয়া কার ও অফ-স্পিনার ইডেন কারসন নিয়েছেন ১টি করে উইকেট। ম্যাচসেরা হয়েছেন ব্রুক হ্যালিডে।