‘তিনটি রাশিয়ান মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান’ ফিনল্যান্ড উপসাগরের ওপর দিয়ে অনুমতি ছাড়াই সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য দেশ এস্তোনিয়ার আকাশে প্রবেশ করেছে। মোট ১২ মিনিট ধরে সেখানে অবস্থান করেছে রুশ যুদ্ধবিমান’। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে ‘নির্লজ্জ অনুপ্রবেশ’ বলে মন্তব্য করেছে। এটি রাশিয়ার সাম্প্রতিক সামরিক কার্যক্রমগুলোর সর্বশেষ উদাহরণ,যা জোটকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এস্তোনিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এস্তোনিয়ার দাবি, যে ১২ মিনিট যুদ্ধ জাহাজগুলো আকাশসীমায় অবস্থান করেছিল, এই সময়ে উচ্চগতির বিমানগুলো সহজেই দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল অতিক্রম করতে পারতো।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গুস টস্যাহকনা, রাশিয়া ইতোমধ্যে এই বছর চারবার এস্তোনিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। কিন্তু এবারের লঙ্ঘন অভূতপূর্বভাবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ। কারণ আমাদের আকাশসীমায় তিনটি যুদ্ধবিমান প্রবেশ করেছে।
এই অনুপ্রবেশ রাশিয়া ও বেলারুশের যৌথ সামরিক মহড়া ‘জাপাদ-২০২৫’ শেষ হওয়ার তিন দিন পর ঘটলো। এতে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র নিক্ষেপের মহড়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রুশ যুদ্ধবিমান নিয়মিত মূল ভূখণ্ড রাশিয়া ও এর কালিনিনগ্রাদ এনক্লেভের মধ্যে বাল্টিক সাগরের ওপর দিয়ে উড়ে যায়।
শনিবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিমানগুলো উত্তর-পশ্চিম রাশিয়া থেকে কালিনিনগ্রাদে যাওয়ার পথে বাল্টিক সাগরের নিরপেক্ষ জলের ওপর দিয়ে উড়েছে।
রুশ মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনটি মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান সম্পর্কে বলেছে, এই উড্ডয়ন আন্তর্জাতিক আকাশসীমার নিয়ম মেনে সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে; অন্য কোনো দেশের সীমানা লঙ্ঘন ছাড়াই, যা স্বাধীনভাবে যাচাই করেও নিশ্চিত করা যায়। উড্ডয়নের সময় রুশ বিমানগুলো চুক্তিকৃত উড্ডয়ন পথ থেকে বিচ্যুত হয়নি এবং এস্তোনিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেনি।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ন্যাটো ও মস্কোর মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে ন্যাটোর আরও দুই সদস্য-পোল্যান্ড ও রোমানিয়া তাদের আকাশে রাশিয়ার ড্রোন অনুপ্রবেশের দাবি করেছে। কয়েক দিন আগে ২০টির বেশি রুশ ড্রোন পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। ন্যাটোর যুদ্ধবিমান সেগুলোর কয়েকটি ভূপাতিত করেছে।