পেশাদার ফুটবল লিগ বলা হলেও আদৌ কতটুকু পেশাদারিত্বের মধ্যে হয়ে থাকে তা নিয়ে রয়েছে গভীর সংশয় ও প্রশ্ন। শুধু মাঠের দিকে তাকালেই সেটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার! এক বসুন্ধরা কিংস ছাড়া অন্য কোনও দলের নিজস্ব স্টেডিয়াম নেই, যেখানে পেশাদারিত্বের সঙ্গে ম্যাচ হতে পারে। তাই প্রতিটি মৌসুমে ধার করে ঢাকার বাইরের জেলাকে ভেন্যু করতে হচ্ছে। কিন্তু সেই ভেন্যুগুলো উপযুক্ত হলে তো? শুরু থেকে বেশ কিছু দিন অনেকটা ‘অনুপযুক্ত’ কিংবা অমসৃণ মাঠে খেলাগুলো হয়ে থাকে। এবারও ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু হচ্ছে। তাই বরাবরের মতো প্রশ্ন উঠছে সংশ্লিষ্ট স্টেডিয়ামগুলোর মাঠ ঠিক আছে তো? নাকি আগের মতোই জোড়াতালির!
সত্যি বলতে দেশের ক্লাবগুলো পেশাদারিত্বের মোড়কে ২০০৭ সাল থেকে খেলে এলেও অধিকাংশের অবস্থা আগের মতোই। বর্তমানে আবাহনী, কিংস, পুলিশ, রহমতগঞ্জ, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও ফর্টিস ছাড়া অন্য ক্লাবের নিজস্ব মাঠই নেই। আবার মাঠ থাকলেও সবাই সেভাবে পরিচর্যা করে না। ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান তো যাযাবরের মতো এখানে সেখানে অনুশীলন করে বেড়ায়।
ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম আপাতত আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য বরাদ্দ রাখায় সেখানে এবার লিগ হবে না। লিগের দশটি দল পাঁচটি ভেন্যুতে খেলবে। দুটি করে ক্লাবের জন্য একটি করে ভেন্যু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস, গাজীপুরে পুলিশ ও পিডব্লিউডি, মুন্সিগঞ্জে রহমতগঞ্জ ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন, মানিকগঞ্জে আরামবাগ ও ফকিরেরপুল, কুমিল্লায় আবাহনী ও মোহামেডান। নতুন ভেন্যু হলো মানিকগঞ্জ। এখন ঢাকার বাইরে ভেন্যুগুলোতে সারা বছর নানান খেলা হয়ে থাকে। দেখা যায় পেশাদার লিগ শুরুর আগে সেখানে ক্রিকেট হয়েছে। তাই পিচ উঠিয়ে ফুটবলের জন্য উপযুক্ত করতে সময় প্রয়োজন। আবার সেটা হয়ে থাকে ধীরলয়ে। তাই পেশাদার লিগের জন্য যেরকম মাঠ হওয়া উচিত সেটা শুরু থেকে পাওয়া যায় না। তাই এবারও তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68c6c80d7f459" ) ); শুধু প্রশ্ন উঠলেই হচ্ছে না, পেশাদার লিগের খেলা মানে ক্লাবগুলোর নিজেদেরও কিছু দায়িত্ব থাকে। মাঠ পরিচর্যার কাজটা তাদেরই করা উচিত। কিন্তু অর্থ সংকটের কথা বলে তারা তাকিয়ে থাকে বাফুফের দিকে। অথচ বাফুফের এখন পর্যন্ত গ্রাউন্ডস কমিটি-ই গঠন হয়নি। ঢাকার বাইরে সেভাবে সব ভেন্যুর পরিচর্যা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় স্থানীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনই বড় ভরসা হয়ে উঠে। সব মিলিয়ে পেশাদার যুগ শুরু হওয়ার পরও ১৮ বছরও আদর্শ মাঠ বলতে যা বুঝায় তা নেই। ক্লাবগুলো সবসময় বল ঠেলে দেয় বাফুফের কোর্টে। এ নিয়ে মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব আগেই বলে রেখেছেন,‘দল গঠন করতে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। ভেনু পরিচর্যা করাও কঠিন। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি। এই বিষয়ে বাফুফের অগ্রণী ভূমিকা রাখা উচিত।’
ভালো মাঠ না হলে ভালো খেলাও যে কঠিন। আবাহনী লিমিটেডের কোচ মারুফুল হক মনে করেন, ‘সবারই পেশাদারিত্ব মেনে চলা উচিত। ভালো মাঠ না থাকলে ভালো খেলা আশা করা যায় না। বাফুফের উচিত ক্লাবগুলোকে কঠিনভাবে সব নিয়ম মানতে বাধ্য করা। যাতে করে খেলা শুরুর আগে ভেন্যুগুলোর পরিচর্যা সেভাবে হয়ে থাকে। আর আমরা প্রতিবারই দেখি শুরুর দিকে কয়েক রাউন্ড অনেকটা অনুপযুক্ত মাঠে খেলা হয়। তারপর সবকিছু আলোচনায় আসার পর মাঠ অনেকটা ঠিক হয়। তাই যেহেতু সময় আছে, নিয়ম মানা উচিত।’
মাঠ নিয়ে পেশাদার লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, ‘আমরা ক্লাবগুলোকে কঠিনভাবে চিঠি দিয়েছি মাঠ ঠিকঠাক করে রাখার জন্য। যেন ভালো মাঠে খেলা হতে পারে। প্রয়োজনে আমরা সাহায্য করবো। মাঠ ঠিক আছে কিনা এর জন্য ম্যাচ কমিশনারসহ অন্যরা আছে।’
তবে মাঠ ঠিক আছে কিনা কিংবা খেলা কেমন হচ্ছে তা দেখতে বাফুফের কিংবা লিগ কমিটির অনেকেই ঢাকার বাইরের ভেন্যুগুলোতে কমই যান। স্টাফ ও অন্যদের ওপর ভরসা তাদের। তাই ক্লাবের একজন কর্মকর্তা তো বলেই ফেললেন, ‘বাফুফে কিংবা লিগ কমিটির কর্তারা যদি ঢাকার বাইরে নিয়মিত খেলা দেখতে আসতেন তাহলে মাঠের কী কী সমস্যা তা নিয়ে কাজ করার আরও সুযোগ পেতেন। কিন্তু তাদের অনেকেই তা করছেন না।’