এক জেলায় একদিনে ৫ লাশ উদ্ধার

এক জেলায় একদিনে ৫ লাশ উদ্ধার

মানিকগঞ্জ জেলায় একদিনে নারীসহ পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার সদর, সিঙ্গাইর, ঘিওর ও সাটুরিয়া উপজেলায় এসব লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

পুলিশ জানিয়েছে, দুপুরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম দাশড়া এলাকার একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলা থেকে আবু হানিফ (৩৮) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আবুল বসরের ছেলে।

নিহতের সাবেক স্ত্রী বৃষ্টি আক্তার জানান, হানিফ ঢাকায় তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা নেন, কিন্তু ফেরত দিতে না পারায় মানসিক চাপে ছিলেন। মানিকগঞ্জে এক পাওনাদারের সঙ্গে টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও, তারা আসার আগেই দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেন।

তিনি আরও জানান, আবু হানিফ আদম ব্যবসা করতেন। তিনি ঋণে জর্জরিত। ঘটনার দিন সোমবার সকালেই তার ভাড়া বাসায় আসেন। এ সময় কয়েকজন পাওনাদারও জড়ো হন। তাদের ভয়ে তিনি গলায় ফাঁস নিয়ে মারা যান।

অন্যদিকে সকালে মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, মৃত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

এ ছাড়া সিঙ্গাইর উপজেলার দেওলি গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে বিষপান করে রোজিনা আক্তার (৩০) নামে এক নারী আত্মহত্যা করেন। তাকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘিওর উপজেলার দেওভোগ গ্রামে ঝুলন্ত অবস্থায় সোনা মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তির লাশও উদ্ধার করা হয়েছে। গত বছর স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। রবিবার রাতে বোনের বাড়িতে গিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি। সকালে দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে, সাটুরিয়ার বারবাড়িয়া এলাকায় ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানায় কাজ করার সময় ছাদ থেকে ড্রাম পড়ে রাসেল মাহমুদ (২৮) নামে এক শ্রমিক নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার রুহুল্লী গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম ও ঘিওর থানার ওসি কোহিনুর ইসলাম জানান, পাঁচটি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin