জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংযুক্ত যুগ্ম কর কমিশনার (সাময়িক বরখাস্তকৃত) এ কে এম শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। তাকে দুই ধাপ বেতন কমিয়ে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
এতে বলা হয়, চট্টগ্রামের কর অঞ্চল-১-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-৪ এ কর্মরত অবস্থায় যুগ্ম কর কমিশনার শামসুজ্জামান ২০২০-২১ করবর্ষে দুই করদাতার (আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলম মাহির) সার্বজনীন স্ব-নির্ধারণী আয়কর রিটার্নের বিপরীতে প্রযোজ্য কর সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়া সত্ত্বেও, পে-অর্ডারের সত্যতা যাচাইয়ের নামে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ১২০ ধারা অনুযায়ী কার্যক্রম স্থগিত করেন। তার এই বেআইনি সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রায় ৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট আয়কর ফাইলের আদেশপত্রে করদাতাদের প্রতিনিধি শুনানিতে হাজির থাকার কোনও রেকর্ড না থাকলেও, শামসুজ্জামান শুনানিতে প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন—যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী “অসদাচরণ” হিসেবে গণ্য হয়।
এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে কৈফিয়ত তলব করা হয়। পরে ব্যক্তিগত শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকার তাকে বেতন গ্রেডের দুই ধাপ অবনমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ তার বর্তমান মূল বেতন ৬১ হাজার ২০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫৬ হাজার ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সই করেন। এতে বলা হয়, আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।