এপস্টেইনের মামলায় অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য গ্রহণের দাবি ডেমোক্র্যাটদের

এপস্টেইনের মামলায় অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য গ্রহণের দাবি ডেমোক্র্যাটদের

মার্কিন যৌননীপিড়ক জেফরি এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট তদন্তে নিয়োজিত কংগ্রেস কমিটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরকে জিজ্ঞাসাবাদে আবারও জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের হাউজ ওভারসাইট কমিটির অন্তত চারজন ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য গ্রহণের দাবি তুলেছেন। অবশ্য কমিটিতে রিপাবলিকানদের আধিপত্য রয়েছে এবং তারা এ বিষয়ে সমর্থন দেবে কি না তা অস্পষ্ট।

এপস্টেইনের সঙ্গে সখ্যতাসহ একাধিক অভিযোগের কারণে রাজা চার্লস বৃহস্পতিবার তার ভাই অ্যান্ড্রুর ‘প্রিন্স’ উপাধি প্রত্যাহার করেন। অবশ্য সাবেক প্রিন্স সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কংগ্রেসম্যান সুহাস সুব্রামনিয়াম বিবিসিকে বলেন, যদি তিনি নিজের নামের কলঙ্ক মোচন এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি ন্যায্য আচরণ করতে চান, তাহলে তিনি এগিয়ে আসবেন।

তিনি আরও বলেন, অ্যান্ড্রুর নাম ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বহুবার এসেছে। তাই তিনি নিঃসন্দেহে জানেন কী ঘটেছিল। আমরা শুধু চাই তিনি এসে তা জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, অ্যান্ড্রু চাইলে সশরীরে না এসেও সাক্ষ্য দিতে, আইনজীবী সঙ্গে রাখতে এবং এমনকি প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে কমিটিতে কথা বলতে পারেন।

আরেক সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি বলেন, প্রয়োজনে তিনি অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য গ্রহণে আনুষ্ঠানিকভাবে সমন জারি করতেও রাজি আছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলে তা কার্যকর করা কঠিন।

তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা জানতে চাই আসলে কী ঘটেছিল। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধেও এটা দরকার।

অন্য সদস্য স্টিফেন লিঞ্চ বিবিসিকে বলেন, অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পেতে সহায়ক হতে পারে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে সমন করা সম্ভব নয়।

এদিকে, এপস্টেইনের এক ভুক্তভোগী লিজ স্টেইন বিবিসিকে বলেন, অ্যান্ড্রুর উচিত নিজ উদ্যোগে তদন্তে সহযোগিতা করা। যদি লুকানোর কিছু না থাকে, তাহলে তিনি কেন এড়িয়ে যাচ্ছেন?

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি, এপস্টেইনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তাই তিনি নিশ্চয়ই কিছু বিষয় দেখেছেন।ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী ক্রিস ব্রায়ান্ট বলেন, অ্যান্ড্রুর উচিত যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রশ্নের জবাব দেওয়া।

সম্প্রতি প্রকাশিত আদালতের নথিতে দেখা গেছে, ২০১০ সালে এপস্টেইন কারাগার থেকে মুক্ত হবার পর অ্যান্ড্রু তাকে ইমেইলে লিখেছিলেন, 'সরাসরি দেখা করে কথা বললে ভালো হয়।' একই বছরের ডিসেম্বরে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়। অবশ্য সম্পর্ক ছিন্ন করতেই ওই সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়েছিল বলে অ্যান্ড্রু দাবি করে আসছেন।

রাজপরিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অ্যান্ড্রু অভিযোগ অস্বীকার করলেও তার আচরণে গুরুতর বিচারের ঘাটতি রয়েছে।

বিগত কয়েক সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে রাজ পরিবারের ওপর চাপ বাড়ছিল। অক্টোবরের শুরুতে ২০১১ সালের কিছু ইমেইল প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায়, অ্যান্ড্রু এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, যদিও তিনি দাবি করেছিলেন সম্পর্ক শেষ করেছেন।

এদিকে, ভার্জিনিয়া জিউফ্রের মৃত্যুর পর প্রকাশিত স্মৃতিকথায় আবারও অভিযোগ করা হয়, কিশোরী বয়সে তাকে তিনবার অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌনসম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছিল—যা অ্যান্ড্রু সবসময় অস্বীকার করে এসেছেন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Comments

0 total

Be the first to comment.

নেপালের পার্লামেন্ট ভাঙার প্রশ্নে থমকে আছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনা BanglaTribune | আন্তর্জাতিক

নেপালের পার্লামেন্ট ভাঙার প্রশ্নে থমকে আছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনা

নেপালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাউদেল এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কা...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin