হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা হলে ঢোকার মুখে কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপলের ছবি টাঙানো। লেখা ওয়েলকাম টু ঢাকা। একইসঙ্গে লেখা ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতি প্রার্থীও চপল।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় শুরু হওয়া কংগ্রেসের মাঝ বিরতির সময় হল জুড়ে তুমুল হাততালির আওয়াজ। যা বাইরের লবিতে দাঁড়িয়েও শোনা যাচ্ছিলো। যেন আভাস পাওয়া যাচ্ছিল সভাপতি পদে জয়ী হতে চলেছেন কাজী রাজীব উদ্দীন।দক্ষিণ কোরিয়ার টমাস হানকে হারিয়ে জয়ী হয়ে হাসিমুখে বের হলেন।
জয়ের পর কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল সংবাদ মাধ্যমদের বলেছেন, ‘নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল। তবে অতি আত্মবিশ্বাস ছিল না। কারণ গতকাল রাতে আমরা ৪টা সার্ভে রিপোর্ট পেয়েছি যে আমি কত ভোট পেতে পারি। ৪টা গ্রুপই আমাকে রেজাল্ট দিল ২৯ ভোট পাবো। পঞ্চমবারেও ফাইনালি রিপোর্টে পেলাম ২৯ ভোটই পাচ্ছি। এটা একটা বিরল দৃষ্টান্ত। এশিয়ান আর্চারি ফেডারেশনের ইতিহাসে এত বড় ঘটনা আর কখনও ঘটেনি। ভোটের এত ব্যবধান কখনও হয়নি। সবাই ধরেছিল আমি হয়তো ২০-২১টি ভোট পাবো। কিন্তু আমি এতটাই আত্মবিশ্বাস ছিলাম যে আমাকে এতটাই ভালোবাসে তারা এর প্রমাণ আজ পেয়ে গেলাম। চপল ইজ চপল।’
এরপর তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের বড় অর্জন। কারণ আমরা রাজনৈতিকভাবে কখনও আপস করিনি। আমাদের ফেডারেশন এখনও নন পলিটিক্যাল। আমরা কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। একটু আগেও যখন ভোটাভুটি চলছিল তখন আমি সেক্রেটারিকে বলছিলাম আমরা পলিটিকস ঘৃণা করি। কিন্তু আমরা কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করি। আজকের বিজয়টা আমাদের কূটনৈতিক বিজয়।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমার একটা স্বপ্ন ছিল একটা দেশকে হারাবো। সেই দেশকে হারিয়েছি। অনেক বড় বড় দেশকে হারিয়েছি। আরেকটি দেশ দরকার যারা বিশ্বের এক নম্বর। এখন তাদের নাম উচ্চারণ করবো না। আপনারা বুঝে নেন। ওটা হারাতে পারলে একটা বড় অর্জন হবে। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সহসাই এক নম্বরে পৌঁছে যাবে।’
খেলোয়াড়দের প্রসঙ্গে বলেন, ‘আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ ফেডারেশন এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বা এমন কোনও আচরণ দেখায়নি যেখানে আর্চাররা বঞ্চিত হয়। আমাদের সিদ্ধান্ত যে সঠিক সেটা আজ পেয়ে গেছেন আপনারা। কারণ আমরা বাংলাদেশের আর্চারদের নিয়ে যে চিন্তাটুকু করি বাংলাদেশের অন্যদের নিয়েও একই চিন্তা করি। আমরা তাদের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিই। তারা যে সুযোগ-সুবিধাগুলো পাই সেগুলো দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা যে সংগঠক হিসেবে সফল সেটা প্রমাণ হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো এশিয়াসহ আফ্রিকাতেও কাজ করেছি আমরা। আমি ইনশাল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রেও কাজ করবো।’
বাংলাদেশসহ এশিয়ার সব দেশকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান চপল। বলেন, ‘আমি বাংলাদেশকে এমন একটা স্তরে নিয়ে যাব যেটা কেউ কল্পনা করেনি। এবং এশিয়ার মানটাও বিশ্বমানে নিয়ে যেতে চাই। এশিয়াতে একটা দেশ প্রাধান্য বিস্তার করবে সেটা না। আমরা চাই প্রতিটি দেশ যেন উন্নতির শিখরে উঠতে পারে।’
প্রতিবছর বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজনও করতে চান তিনি। বলেন, ‘টুর্নামেন্ট করা সহজ সফল করা কঠিন। আমি চাই বাংলাদেশে প্রতি বছর একটা করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে। এটা করতে পারলে বাংলাদেশ এক সময় কোরিয়ার পর্যায়ে চলে যাবে।’