গাজীপুরের টঙ্গীতে কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিন সদস্য। সর্বশেষ আজ শনিবার সকালে মারা যান ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর (অফিসার) খন্দকার জান্নাতুল নাঈম (৩৭)। দুপুরে সহকর্মীদের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে জানাজা সম্পন্ন হয় নাঈমের। জানাজা শেষে নিহত খন্দকার জান্নাতুল নাঈমের স্ত্রী ফারজানা ইসলাম মিতু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে মিতু বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অনেক ভালো। কিন্তু তাদের কাজের কোনো মূল্যায়ন হয় না, কেন হয় না স্যার? ফায়ার সার্ভিসের প্রতিটি সদস্য যেভাবে কাজ করেন, দেশের অন্য কোনো ফোর্স এভাবে কাজ করে না।
জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সবারই কাজের মূল্যায়ন হয়। আপনি যেহেতু মূল্যায়নের কথা বলেছেন আমরা আরও দেখবো। ফায়ার সারভিসের কর্মকর্তা নাঈম দায়িত্বরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আমাদের তরফ থেকে যতটা করার সব কিছু করা হবে।
এর আগে শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে নাঈমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে জান্নাতুল নাঈমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এসময় অগ্নিসেনাদের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।
আরও পড়ুনটঙ্গীর আগুনে এবার চলে গেলেন ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর নাঈমসহকর্মীদের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় ফায়ার ইন্সপেক্টর নাঈমের জানাজা
গত ২২ সেপ্টেম্বর টঙ্গীতে কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হন ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য। এরমধ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ ও পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর ফায়ার ফাইটার নুরুল হুদা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাদের দুজনের শরীরে শতভাগ দগ্ধ ছিল। সর্বশেষ ২৭ সেপ্টেম্বর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর (অফিসার) খন্দকার জান্নাতুল নাঈম মারা যান। তার শরীরের ৪২ শতাংশ দগ্ধ ছিল।
২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট জান্নাতুল নাঈম বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে যোগদান করেন। চাকরি জীবনে স্টেশন অফিসার হিসেবে মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ ফায়ার স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময় পদোন্নতি পেয়ে ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর হিসেবে চট্টগ্রাম ও সর্বশেষ টঙ্গী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে জান্নাতুল নাঈম বিবাহিত ছিলেন এবং এক সন্তানের জনক।
অগ্নি দুর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে সর্বদা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৫১ জন ফায়ার সার্ভিসের বীর সদস্য আত্মত্যাগ করেছেন। সর্বশেষ এই গৌরবময় আত্মত্যাগের মিছিলে যোগ হলো খন্দকার জান্নাতুল নাঈমের নাম।
টিটি/কেএসআর/জেআইএম