ফিলিপাইনের এক সাবেক মেয়রকে মানব পাচারের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বামবান শহরের সাবেক ওই মেয়র অ্যালিস গুওর বিরুদ্ধে চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগও ছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
রাজধানী ম্যানিলার উত্তরের শহর বামবানে মানব পাচারের প্রতারণা কেন্দ্র খুঁজে পাওয়ার পর থেকেই অ্যালিস গুওর মামলাটি আলোচনায় রয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৮০০ জন ফিলিপিনো এবং বিদেশিকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদেরকে জোরপূর্বক 'পিগ বুচারিং' ধরনের অনলাইন প্রতারণা চালাতে বাধ্য করা হতো বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার আদালত তাকে এবং আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ পেসো (৩৩,৮৩২ ডলার; ২৫,৯৪২ পাউন্ড) জরিমানা করেন।
এসব অভিযোগে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দেশটির আদালত অ্যালিসসহ আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রায় ৩৪ হাজার মার্কিন ডলার অর্থদণ্ড প্রদান করে।
অবশ্য, সব দায় অস্বীকার করেছেন সাবেক মেয়র। রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন কিনা, এই প্রতিবেদনে লেখা পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারসহ পাঁচটি মামলা চলমান আছে।
২০২২ সালে গুয়ো রাজধানী ম্যানিলার উত্তরের শহর বামবানের মেয়র নির্বাচিত হন। স্থানীয়রা বিবিসিকে জানান, তাকে তখন সহানুভূতিশীল ও যত্নশীল নেতা হিসেবে দেখা হতো।
২০২২ সালে বামমানের মেয়র নির্বাচিত হন অ্যালিস। তখন তাকে সহানুভূতিশীল একজন নেতা হিসেবেই বিবিসির চিত্রিত করেছিলেন স্থানীয়রা। ২০২৪ সালে অনলাইন ক্যাসিনোর নামে প্রতারণা কেন্দ্রগুলো প্রকাশ্যে এলে পরিস্থিতি পালটে যায়। স্থানীয়ভাবে সেগুলোকে বলা হয় ফিলিপাইন অনলাইন গেমিং অপারেশনস (পোগো)।
পোগো মূলত চীনের মূল ভূখণ্ডের গ্রাহকদের জুয়া খেলার জন্য ব্যবহৃত হয়।
অ্যালিস প্রথমে পুরো ব্যাপারটি জানেন না বলে দাবি করেন। তবে তার কার্যালয়ের কাছেই অবস্থিত আট হেক্টর জায়গা জুড়ে থাকা কেন্দ্রের অস্তিত্ব নিয়ে অন্ধকারে থাকার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে পার্লামেন্ট। পরবর্তীতে জানা যায়, ৩৬টি ভবন সমন্বিত ওই কম্পাউন্ডটির জমি আগে তার মালিকানায় ছিল।
এছাড়া অ্যালিসের জীবনবৃত্তান্তে অসংগতি পাওয়া যায়। তিনি ফিলিপাইনে জন্মেছেন বলে দাবি করলেও তদন্তে উঠে আসে, ছোটবেলায় পরিবারসহ চীন থেকে ফিলিপাইনে চলে আসেন অ্যালিস। ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ তার আঙুলের ছাপের সঙ্গে চীনা নাগরিক গুয়ো হুয়া পিংয়ের সাদৃশ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।