ফ্লাইট বাতিল হলেও ভাঙেনি যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স অভিবাসন চুক্তি

ফ্লাইট বাতিল হলেও ভাঙেনি যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স অভিবাসন চুক্তি

এস ইসলাম, লন্ডন থেকে

যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের অভিবাসন চুক্তির আওতায় প্রথম ফ্লাইট টানা দুই দিন বাতিল হলেও চুক্তি কার্যকর আছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ চুক্তি হলো একজন ঢুকলে আরেকজন বের হবে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এয়ার ফ্রান্সের ফ্লাইটে প্রথমবার লন্ডন থেকে ফ্রান্সে অভিবাসীদের নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে চ্যারিটি সংস্থাগুলোর প্রতিবাদে তা আর সম্ভব হয়নি।

গতকাল বুধবার আরেকটি ফ্লাইটে করে অভিবাসীদের পাঠানোর কথা থাকলেও যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টের একটি রায়ে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়।

ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান এক ইরিত্রিয়ান নাগরিক। তিনি শেষ মুহূর্তে হাইকোর্টে আইনি লড়াইয়ে জিতে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে বন্ধ করাতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ পাইলট চুক্তির আওতায় ফেরত পাঠানোর তালিকায় ছিলেন। ২৫ বছর বয়সী ওই যুবক ১২ আগস্ট যুক্তরাজ্যে পৌঁছান। বুধবার তাকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু তার আইনজীবীরা লন্ডনের হাইকোর্টে যুক্তি দেন, তিনি আধুনিক দাসত্বের শিকার হতে পারেন এবং এ সংক্রান্ত প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য তার আরও সময় প্রয়োজন। আদালত তাদের যুক্তি গ্রহণ করে এবং অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ যৌথভাবে ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ পাইলট প্রকল্পটি ঘোষণা করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী, ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছে যাদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হয়েছে বা গ্রহণযোগ্য নয় বলে ঘোষিত হয়েছে, তাদের ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হবে এবং প্রতিটি ফেরত পাঠানো ব্যক্তির বিনিময়ে যুক্তরাজ্য ফ্রান্সে থাকা এমন একজন শরণার্থীকে গ্রহণ করবে, যিনি চ্যানেল পার হওয়ার চেষ্টা করেননি।

এ পর্যন্ত কাউকে এই চুক্তির আওতায় ফেরত পাঠানো হয়নি। সোমবার থেকেই প্রথম ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। গত দুই সপ্তাহে অভিবাসন আটক কেন্দ্রে থাকা কয়েকজনকে জানানো হয়েছিল, মঙ্গলবার সকালে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সকাল ৯টায় এয়ার ফ্রান্সের নির্ধারিত ফ্লাইটে তাদের প্যারিসে পাঠানো হবে।

প্রকল্পটি ‘বিশৃঙ্খল‘ কি না সাংবাদিকরা জানতে চাইলে সরকারি মুখপাত্র বলেন, ‘না, এই পাইলট প্রকল্পের আইনি ভিত্তি নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী। স্বদেশীয়ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যে কোনো নীতির মতো এটিও আইনি পর্যালোচনার মুখোমুখি হলে আমরা প্রস্তুত আছি।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, না এটি কোনোভাবেই ‘বিশৃঙ্খল’ পরিস্থিতি নয়। সোম ও মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য থেকে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের প্যারিসে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল হয়, তবে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার নতুন ফ্লাইট বুক করা হয়েছে এবং প্রথম ফ্লাইটটি চলতি সপ্তাহেই হতে পারে।

দেশটির হোম অফিস জানিয়েছে, ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর জন্য আটক কিছু আশ্রয়প্রার্থী গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে আছেন। অনেকেই নির্যাতন ও মানবপাচারের শিকার। বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সোমবার দুটি ফ্লাইট নির্ধারিত থাকলেও শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ফরাসি কর্তৃপক্ষকে যথাসময়ে না জানানোয় তারা আপত্তি তুলেছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ফেরত পাঠানো ব্যক্তির চিকিৎসা বা বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন আছে কি না তা যুক্তরাজ্য ফ্রান্সকে জানাবে।ফ্রান্স জানিয়েছে, শুরুতে তারা মাত্র প্রায় ৫০ জনকে গ্রহণ করবে, তবে যুক্তরাজ্য আশা করছে পরবর্তীতে সংখ্যাটি বাড়াতে পারবে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩১ হাজার ২৬ জন ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্র থেকে জানা গেছে।

এমআরএম/এএসএম

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin