ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকা অভিমুখী ত্রাণবাহী জাহাজের বহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকে দেওয়ার পর, ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে এবং দোকান ও রেস্তোরাঁ ভাঙচুর করে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ত্রাণবাহী ওইসব জাহাজ থেকে সশস্ত্র ইসরায়েলি সৈন্যরা বিভিন্ন দেশের প্রায় চার শতাধিক মানবাধিকার কর্মীকে আটক করে। তাদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গও ছিলেন। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে পড়ে ইসরায়েল।
বার্সেলোনায় বিক্ষোভকারীরা স্টারবাকস, বার্গার কিং হ্যামবার্গার ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং ক্যারিফোর সুপারমার্কেটসহ বিভিন্ন দোকান ও রেস্তোরাঁর জানালা ভেঙে ফেলে। ওইসব দোকানের দেয়ালে ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান স্প্রে-পেইন্ট করে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সহযোগী।
ইতালিতে শিক্ষার্থীরা মিলানের স্টাতালে এবং রোমের লা সাপিয়েঞ্জা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, গাড়ির টায়ার দিয়ে তারা বোলোনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। তুরিনে শত শত মানুষ শহরের রিং রোডে যান চলাচল অবরোধ করে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68e15011032ed" ) );
এদিকে রোমে ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্টসহ অন্যরা এক সমাবেশে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়। সেখানে তারা টর্চলাইট ও মোবাইল ফোনের আলো জ্বালাবেন এবং গাজায় নিহত ১ হাজার ৬৭৭ স্বাস্থ্যকর্মীর নাম পড়ে শোনাবেন। এছাড়া আয়োজকরা জানান, ইতালির ইউনিয়নগুলো গাজায় সাহায্যবাহী ফ্লোটিলার সমর্থনে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
সারা ইউরোপে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ডাবলিন, প্যারিস, বার্লিন ও জেনেভার রাস্তায় নেমে ইসরায়েলের ফ্লোটিলা আটকের নিন্দা জানিয়েছেন। বুয়েনস আয়ার্স, মেক্সিকো সিটি এবং করাচিতেও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।
ইস্তাম্বুলে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে হাজারো জনতা জড়ো হয়। তাদের হাতে ছিল ব্যানার, যেখানে লেখা ছিল— ‘ইসরায়েল মানবজাতিকে হত্যা করছে, গাজাকে নয় / চুপ থেকো না, বসে থেকো না, দাঁড়িয়ে যাও।’
গাজার যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।