দক্ষিণ কোরিয়ায় চালকের অবহেলার কারণে একটি ফেরি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে বুধবার (২০ নভেম্বর) ওই ফেরিটি পাথরে ধাক্কা খায়। এই ঘটনায় ফেরির দুই কর্মী ও প্রধান চালকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
শিনান কাউন্টির জাংসান দ্বীপ উপকূলে জনবসতিহীন জগদো দ্বীপের কাছে ‘কুইন জেনুভিয়া–২’ ফেরিটি পাথরে আটকে পড়ে। সে সময় বাহনটিতে ২৬৭ জন যাত্রী ও কর্মী ছিলেন। দুর্ঘটনায় ২৭ জন সামান্য আহত হন।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্ট গার্ড বিবিসিকে জানায়, মারাত্মক অবহেলার কারণে আহত করার অভিযোগে হেলসম্যান (ফেরিচালক) ও ফার্স্ট মেটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হেলসম্যান প্রথমে স্টিয়ারিং হুইলের ত্রুটি অভিযোগ করলেও পরে স্বীকার করেন যে তিনি মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকার কারণে নির্দিষ্ট মোড়ে দিক পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হন।
ঘটনার আদ্যোপান্ত জানতে তদন্ত চলছে। ফেরিটি এখন নিকটবর্তী একটি বন্দরে নোঙর করেছে।
দুর্ঘটনার পর কয়েকজন যাত্রী সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার তাৎক্ষণিক বিবরণ দেন। দেশটির বার্তাসংস্থা ইয়োনহাপ এক যাত্রীর বক্তব্য প্রকাশ করেছে। ওই যাত্রীর বয়ান, একটি জোরালো শব্দের পর পুরো ফেরি কেঁপে উঠলো। এরপর সবাইকে লাইফজ্যাকেট পরার নির্দেশ দেওয়া হয়। আরোহীরা সে মোতাবেক জ্যাকেট পরে ডেকে অপেক্ষা করতে থাকে।
২৬ হাজার টন ওজনের এই ফেরিটি জেজু দ্বীপ থেকে মকপো শহরের উদ্দেশে যাত্রা করছিল বলে কর্মকর্তারা জানান।
বুধবারের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জেজু দ্বীপের ডাইভিং প্রশিক্ষক কিম নামহিউন রয়টার্সকে বলেন, মনে হয়েছিল আমি হয়তো মরেই যাব। শব্দটা খুব জোরালো ছিল। কিন্তু সেওয়াল ফেরির ঘটনা দেখে আমি জানতাম, এ ধরনের পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে লাইফ জ্যাকেট পরতে হয় এবং অপেক্ষা করতে হয়।
ওই দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি আরেকটি জায়গা হচ্ছে সেওয়াল, যেখানে ২০১৪ সালে ভয়াবহ এক ফেরি দুর্ঘটনা হয়েছিল। ওই ঘটনায় তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন স্কুলশিক্ষার্থী।
সেওয়াল ফেরির ধ্বংসাবশেষ প্রায় তিন বছর পর মকপোতে আনা হয়।