বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বইমেলা জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা। এ বছরের আয়োজন শেষ হয়েছে। এবারের মেলাতে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সুপরিচিত ভারতীয় একটি প্রকাশনার গবেষণামূলক বই ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত বইটির শিরোনাম BANGLADESH ON THE BRINK, (BLEEDING BOUNDARIES) (বাংলায় ‘বাংলাদেশ অন দ্য ব্রিংক : ব্লিডিং বাউন্ডারিজ’, যার ভাবার্থ ‘বড় পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ—সীমারেখা যখন মুছে যাচ্ছে!’)। প্রকাশ করেছে দিল্লির ‘মতিলাল বানারসীদাস’।
গত ১৭ অক্টোবর ফ্রাঙ্কফুর্টে বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাহায্য করেছে ভারত সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। বইমেলার ‘ইন্ডিয়া স্টেজে’ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রকাশনা সংস্থা ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট (এনবিটি), ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জার্মানিতে ভারতের দূতাবাস ও ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং হামবুর্গের ভারতীয় কনস্যুলেটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।
এই বইটিতে বেশ কতগুলো নিবন্ধের সংকলন—যার লেখকরা হলেন যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, ইউরোপ-ভিত্তিক লেখক রবার্ট বব ল্যান্সিয়া এবং লন্ডন-ভিত্তিক জিওপিলিটিক্যাল অ্যানালিস্ট প্রিয়জিত দেব সরকার।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68fe8cedc7b7c" ) );
শিরোনামের সঙ্গে সংগতি রেখে এই বইটি যুক্তি দিয়েছে : ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে দেখা দিয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সংকট—যা দেশটির গণতান্ত্রিক চরিত্রকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। একসময় দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার দিকে।’ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68fe8cedc7bc4" ) );
বইটির লেখক ত্রয়ী বলেন, ‘নতুন এই বাস্তবতায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত হচ্ছে, ভিন্নমত দমন করা হচ্ছে, এমনকি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপরও নিপীড়নের অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের নামে বিরোধী মতের কণ্ঠরোধ ও ধর্মনিরপেক্ষতার চিহ্ন মুছে ফেলার প্রবণতা দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে।’
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ‘‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এবং তুরস্কের তথাকথিত ‘নব্য-অটোমান’ সফট পাওয়ার নীতির প্রভাব দেশের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যেও পরিবর্তন ঘটছে, বিশেষত ভারতের জন্য সৃষ্টি হয়েছে এক জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতি।’’
গবেষণাটি প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক আইনগত প্রেক্ষাপটের আলোকে দাবি করেছে যে বাংলাদেশের বর্তমান সংকট কেবল সে দেশের অভ্যন্তরীণ নয়; এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।
বইয়ের শেষাংশে লেখকরা আহ্বান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন যৌথভাবে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের অবশিষ্ট অংশ রক্ষা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন এক কর্তৃত্ববাদী জোটের উত্থান প্রতিরোধে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68fe8cedc7bfd" ) );
বইটির বক্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে দ্বিমত থাকতে পারে, তবে বইটির প্রকাশ অনুষ্ঠানে যেভাবে ভারত সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করার কারণ আছে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলাতে বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জার্মানিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাংবাদিক ও সম্পাদক ফাতেমা রহমান রুমা, জার্মান বাংলা টোয়েন্টি ফর ডট কমের নির্বাহী সম্পাদক দেলোয়ার জাহিদ বিপ্লব, জেনেভা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাউন্সিলের মানবাধিকার কর্মী খলিলুর রহমান মামুন ও জার্মানিতে বসবাসরত বহু প্রবাসী বাঙালিরা।