ভোরের মিরপুরের আকাশ তখনও মেঘলা। হোপ স্কুলের গলিতে দাঁড়িয়ে মানুষজন বারবার চোখ তুলছিলেন উঁচু এক নারিকেল গাছের দিকে। গাছের মাথায় ভয়ে কুঁকড়ে বসে আছে একটি বিড়াল। গত দুই দিন ধরে নামতে পারছে না বিড়ালটি। খাবার নেই, বিশ্রাম নেই—শুধু আতঙ্ক আর অপেক্ষা। আর গলির মানুষগুলো দাঁড়িয়ে আছে, বিড়ালটির নিরাপদে ফেরার আশায়।
প্রথম দিনেই বিড়ালটি নামানোর জন্য স্থানীয়রা নানা কৌশল নেন। খাবারের টোপ দেওয়া হয়, লাঠি দিয়ে আলতো করে নামানোর চেষ্টা হয়, এমনকি মই এনে গাছে ওঠার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু প্রতিবারই বিড়ালটি ভয়ে আরও ওপরে উঠে যায়।
এই অসহায় দৃশ্য দেখে নুসরাত জাহান নামের এক তরুণী সাহায্যের জন্য ফেসবুকে পোস্ট দেন। সেই পোস্টে মিজানুর রহমান নামে একজন ট্যাগ করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে এ ঘটনা জেনে ডিএনসিসি প্রশাসক এজাজ দ্রুত যোগাযোগ করেন ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এবিএম সামসুল আলমের সঙ্গে। প্রশাসক দ্রুত বিড়ালটি উদ্ধারের জন্য প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেন।
খবর পেয়ে ডিএনসিসির কর্মীরা গিয়ে বিড়ালটি উদ্ধার অভিযানে নামে। কিন্তু উচ্চতার কারণে ব্যর্থ হতে থাকে একের পর এক প্রচেষ্টা। এরপর ডিএনসিসি যোগাযোগ করে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে।
খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অবশেষে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ছোট্ট প্রাণটিকে নিরাপদে নামানো হয়।
এ বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‘মানুষের পাশাপাশি সব প্রাণীও যেন নিরাপদে বাঁচতে পারে, আমরা সে রকম একটি বাসযোগ্য শহর গড়ার চেষ্টা করছি।’
বিড়ালটি নিরাপদভাবে উদ্ধারের পর ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালকে ফোন করে ধন্যবাদ জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এই শহরকে সবার জন্য নিরাপদ করা সম্ভব।’