গাজা-হামাস ইস্যুতে এরদোয়ানকে কী অনুরোধ করেছেন ট্রাম্প?

গাজা-হামাস ইস্যুতে এরদোয়ানকে কী অনুরোধ করেছেন ট্রাম্প?

গাজা যুদ্ধের অবসান নিয়ে মার্কিন পরিকল্পনায় হামাসকে রাজি করাতে তুরস্ককে অনুরোধ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এমনটাই জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। তিনি বলেন, আঙ্কারা ইতোমধ্যে হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বুধবার হামাস জানিয়েছে, বন্দিবিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে তারা ইসরায়েলি জিম্মি ও ফিলিস্তিনি বন্দিদের নামের তালিকা বিনিময় করেছে এবং মিসরে অনুষ্ঠিত আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদী। এই আলোচনা ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়েই চলছে।

তুরস্ক প্রকাশ্যে এই পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং আলোচনায়ও যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি ইসরায়েলের অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। আঙ্কারা ইসরায়েলের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করেছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের দাবি তুলেছে।

আজারবাইজান সফর শেষে দেশে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এরদোয়ান বলেন, তুর্কি কর্মকর্তারা বুধবার মিসরের শার্ম আল-শেখে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। আমরা শুরু থেকেই হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। এখনও রাখছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের বোঝাচ্ছি কীভাবে সবচেয়ে উপযুক্ত পথে অগ্রসর হওয়া যায়, কী করলে ফিলিস্তিন দৃঢ়ভাবে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

এরদোয়ান জানান, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের সাক্ষাৎ ও সর্বশেষ ফোনালাপে আমরা ব্যাখ্যা করেছি, কীভাবে ফিলিস্তিনে টেকসই সমাধান আসতে পারে। তখনই ট্রাম্প বিশেষভাবে আমাদের অনুরোধ করেন হামাসের সঙ্গে কথা বলে তাদের রাজি করাতে।

তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন আগের দফায় দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। এখন তিনি শার্ম আল-শেখের আলোচনাতেও যুক্ত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন এরদোয়ান।

যুদ্ধোত্তর গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তুর্কি সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এরদোয়ান বলেন, এখন মূল লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং গাজা পুনর্গঠনের কাজ শুরু করা। এসব বিষয়ে শার্ম আল-শেখের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে গাজায় স্থিতিশীলতা আনতে তুরস্ক সব ধরনের অবদান রাখতে প্রস্তুত। গাজাকে অবশ্যই একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অংশ হতে হবে এবং এর শাসন ফিলিস্তিনিদের হাতেই থাকা উচিত।

Comments

0 total

Be the first to comment.

যেভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দাফন করছে ইসরায়েল? BanglaTribune | মধ্যপ্রাচ্য

যেভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দাফন করছে ইসরায়েল?

ইসরায়েলি দখলকৃত পশ্চিম তীরে এখন বসবাস করছেন প্রায় ২৭ লাখ ফিলিস্তিনি। দীর্ঘদিন ধরে এ ভূখণ্ডকে ভবিষ্...

Sep 22, 2025

More from this User

View all posts by admin