তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে বুধবার আঙ্কারায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠন প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হবে বলে মঙ্গলবার এক তুর্কি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।
ন্যাটো সদস্য তুরস্ক গাজায় ইসরায়েলের দুই বছরের অভিযানের সবচেয়ে কড়া সমালোচক। ইসরায়েলি অভিযানকে দেশটি ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসরায়েল এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। মিসর ও কাতারের পাশাপাশি তুরস্ক এই নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে এবং এর কঠোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের অঙ্গীকার করেছে।
সূত্রের বরাতে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বুধবারের বৈঠকে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলাত্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন। ফিদান উল্লেখ করবেন যে, ইসরায়েলের লঙ্ঘন সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি পক্ষ চুক্তির শর্ত মানছে এবং ইতিবাচকভাবে প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছে। পাশাপাশি তিনি গাজা পুনর্গঠনে বিশ্বশক্তিগুলোর সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবেন এবং তুরস্কের অংশগ্রহণের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করবেন।
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস পরস্পরকে গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করে আসছে। ইসরায়েল দাবি করছে, হামাস জিম্মিদের দেহ ফেরত দিতে বিলম্ব করছে। অপরদিকে হামাস বলছে, ইসরায়েল মানবিক সহায়তা সরবরাহে বাধা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে তুরস্ক যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক টাস্কফোর্সে যোগদানের আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। এমনকি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনাধীন এক আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতেও অংশ নিতে চায় আঙ্কারা। তবে ইসরায়েল এ বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেছে, গাজায় কোনও তুর্কি বাহিনী থাকবে না।
সূত্র আরও জানায়, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বুধবার তুরস্ক-মিসর যৌথ পরিকল্পনা গ্রুপের প্রথম বৈঠকও করবেন। এর আওতায় আগামী বছর কায়রোতে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে, যা গত বছর স্বাক্ষরিত এক চুক্তির অংশ।
আঙ্কারা গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠানোয় মিসরের ভূমিকার প্রশংসা করে আসছে। তুরস্ক ইতোমধ্যে হাজার টন ত্রাণ পাঠিয়েছে এবং হামাসের সঙ্গে যৌথভাবে ইসরায়েলি জিম্মিদের মৃতদেহ শনাক্ত করতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
এ মাসের শুরুর দিকে সাত মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ইস্তাম্বুলে বৈঠক করলেও মিসর সেখানে অংশ নেয়নি।
এর আগে সোমবার ওয়াশিংটন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিরিয়া ও গাজা ইস্যুতে আলোচনা করেন হাকান ফিদান। বৈঠক শেষে তিনি জানান, তারা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।