গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনুসে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) জানায়, হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। প্রায় ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে হামাস ও ইসরায়েল পরস্পরকে লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার পর এ হামলা হলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গাজার মেডিক্যাল সূত্র জানায়, খান ইউনুসের পূর্বে বানি সুওহাইলা শহরে একটি বাড়িতে বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়, তাদের মধ্যে রয়েছে এক শিশু কন্যা। আহত হন আরও ১৫ জন। কাছের আবাসান শহরে আরেক হামলায় এক ব্যক্তি নিহত ও তিনজন আহত হন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলার কথা নিশ্চিত করলেও হতাহতের ব্যাপারে কিছু জানায়নি।
বৃহস্পতিবার পরে নাসের হাসপাতাল জানায়, আবাসান শহরে ইসরায়েলি গুলিতে আরও এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
বুধবার ইসরায়েল বলেছিল, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা সেনাদের ওপর গুলি চালানোর পর তারা গাজাজুড়ে হামলা চালিয়েছে। গাজার মেডিক্যাল কর্মকর্তারা বলেছিলেন, অন্তত ২৫ জন নিহত হন। ২৯ অক্টোবরের পর এক দিনে এটাই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা। ওইদিন কমপক্ষে ১০০ জন নিহত হয়েছিলেন।
হামাস এটিকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি বলে মন্তব্য করেছে। তারা মধ্যস্থতাকারী আরব দেশ, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম অভিযোগ করেন, ইসরায়েল সম্মত মানচিত্র পরিবর্তন করে দখলকৃত এলাকার সীমানা পশ্চিম দিকে সরিয়ে নিয়েছে, যা দখলের পরিধি ৫০ শতাংশেরও বেশি রাখছে।
বাসিন্দারা বলছেন, গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলের শেজাইয়া এলাকায় এসব চিহ্ন পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে ইসরায়েল এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় বুধবার বাস্তুচ্যুত পরিবারদের আশ্রয় দেওয়া একটি ভবনে অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার পর বৃহস্পতিবারও ধ্বংসস্তূপ থেকে মালপত্র উদ্ধার করতে দেখা গেছে স্থানীয়দের। উদ্ধারকর্মীরা আরও মৃতদেহের সন্ধান করছিলেন।
জেইতুনের বাসিন্দা আকরাম ইসওয়াইর বলেন, ওরা বলে যুদ্ধবিরতি আছে, কিন্তু আমি সন্দেহ করি। প্রতিদিনই বলে যুদ্ধবিরতি, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মিসাইল আঘাত হেনেছে দরিদ্র, বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর। আমরা কী করব?
১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি দুই বছরের গাজা যুদ্ধকে কিছুটা থামিয়েছে। এতে শত–শত ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপে ফিরতে পেরেছেন। ইসরায়েল শহরাঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছে, ত্রাণ প্রবাহও বেড়েছে।
তবে সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। হামাস প্রভাব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে, কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন গাজা বাস্তবে বিভক্ত হয়ে পড়ছে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৩১২ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল বলছে, এ সময় তাদের তিন সেনা নিহত হয়েছে এবং তারা অসংখ্য যোদ্ধাকে টার্গেট করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে, যাদের বেশির ভাগই বেসামরিক। তারা ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। ইসরায়েলের পাল্টা অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, গাজায় থাকা ২০ জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয় হামাস। বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি ও যুদ্ধাবন্দিকে ছেড়ে দেয়। এছাড়া হামাস ২৮ জন মৃত জিম্মির দেহ ফেরত দিতে সম্মত হয়। তাদের মধ্যে ২৫ জনের দেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। ইসরায়েল ৩৩০টি ফিলিস্তিনি লাশ ফেরত দিয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।