গাজা উপত্যকায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। রবিবার এমন তথ্য দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে কয়েকটি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এক সপ্তাহ আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক এক কর্মকর্তা বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামাস রকেটচালিত গ্রেনেড ও স্নাইপার আক্রমণ চালিয়েছে। উভয় ঘটনাই যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন।
তবে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা ইজ্জাত আল রিশেক জানান, তাদের সংগঠন যুদ্ধবিরতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। উল্টো ইসরায়েলকেই একাধিকবার চুক্তি ভাঙার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন তিনি। হামাস বা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের কেউই রবিবারের গাজা হামলার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি।
গাজার সরকারি মিডিয়া কার্যালয় শনিবার জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েল ৪৭ বার লঙ্ঘন করেছে। এতে ৩৮ জন নিহত ও ১৪৩ জন আহত হয়েছেন।
জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
১১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর এটি সবচেয়ে বড় উত্তেজনা বলে পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য। রবিবারের হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি।
সম্প্রতি ইসরায়েল ও হামাস একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, গাজা-মিসর সীমান্তের রাফাহ ক্রসিং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সীমান্ত ২০২৪ সালের মে মাস থেকে বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। আন্তর্জাতিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষক সংস্থা আইপিসি জানিয়েছে, আগস্ট পর্যন্ত গাজার হাজার হাজার মানুষ দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত ছিলেন।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে নিহত জিম্মিদের মরদেহ ফেরত নিয়ে দ্বন্দ্বও এখনও মীমাংসিত নয়। ইসরায়েল বলেছে, হামাস এখনও ২৮ জন নিহত জিম্মির সব মরদেহ ফেরত দেয়নি। হামাসের দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা লাশ উদ্ধারে বিশেষ সরঞ্জাম ও সময় প্রয়োজন।
এদিকে যুদ্ধের অবসানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বাস্তবায়নে একাধিক জটিলতা রয়ে গেছে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন এবং সম্ভাব্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় আছে।