ভারতে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে পৌঁছে গেছে ঘূর্ণিঝড় মোন্থা। সোমবার (২৭ অক্টোবর) অঙ্গরাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রখর জৈন এ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, মোন্থার প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ো বাতাস বইতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি আগের ছয় ঘণ্টায় ১৮ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী কাকিনাড়, কোনাসীমা, পশ্চিম গোদাবরি, কৃষ্ণ, বাপাতলা, প্রকাসম এবং নেল্লোর জেলায় সোমবারের জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর (আইএমডি)। এছাড়া, তামিলনাড়ুর উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা থিরুভাল্লুর, উড়িষ্যার মালকানগিরি, কোরাপুট, কালাহান্ডি, গজপতি, নবরংপুর, বালাংগির, কন্ধমাল ও গাঞ্জামসহ একাধিক দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলায় প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইএমডি। এই অংশের জন্য অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে মোন্থা। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বন্যার ঝুঁকিপ্রবণ অঞ্চলে আগাম সতর্কতামূলক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য মুখমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইড়ু। পরিস্থিতির খোঁজ খবর নিতে নাইড়ুকে ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী নারা লোকেশকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইকে এনটিআর জেলার কালেক্টর জি লাকসিমা বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক দল মাঠে রয়েছে। তারা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সতর্কতার জন্য ১৮০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা আছে। পাশাপাশি, ২৪টি ড্রোনের মাধ্যমে টানা আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ভিজায়ওয়াড়া শহরের পুলিশ কমিশনার এস ভি রাজাশেখর বাবু বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় পুলিশ বিভাগ পুরো প্রস্তুত আছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি জানান, একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সবকিছু দেখভাল করা হচ্ছে। সার্বক্ষণিক অবস্থা যাচাইয়ে ব্যবহার হচ্ছে ৪২টি ড্রোন। এছাড়া, আগাম সতর্কতা হিসেবে ৩৬০টি বাড়ি থেকে ইতোমধ্যে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: পিটিআই, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস