ফসল কাটার মৌসুমে পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনে নেদারল্যান্ডসের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক শোফের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আহ্বান জানান।
ফলমূল ও শাকসবজির প্রধান উৎপাদক হিসেবে বাংলাদেশের উত্থানের কথা তুলে ধরে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘ফসল কাটার সময় যখন স্থানীয় বাজারগুলো তাজা পণ্যে ভরপুর থাকে, তখন লাখ লাখ ক্ষুদ্র কৃষক প্রায়ই ক্ষতির সম্মুখীন হন। গ্রামাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী হিমঘরের সুবিধার অভাবে কৃষকরা তাদের ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন না।’
তিনি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস কৃষিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়। আমাদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের জন্য আমাদের ডাচ প্রযুক্তি প্রয়োজন।
নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আপনি আমাদের কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার জন্য গবেষক এবং বিজ্ঞানীদের পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারেন।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘মূলত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে বাংলাদেশে প্রতি বছর লাখ লাখ টন ফল ও শাকসবজি পচে যায়। ফলে আমাদের কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়।’
প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশি ফল যেমন আম, কাঁঠাল ও পেয়ারার প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে। তবে, রপ্তানি বাড়ানোর জন্য উন্নত সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং লজিস্টিকসের অ্যাক্সেস প্রয়োজন।’
প্রধান উপদেষ্টা বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং সামুদ্রিক প্রযুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের নেতৃত্বের গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পানি ব্যবস্থাপনা, সমুদ্র গবেষণা এবং বাংলাদেশের নদীগুলোকে নাব্য রাখার প্রচেষ্টায় নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা কামনা করেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী শোফ জানান, তিনি উত্থাপিত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবেন এবং টেক্সটাইল খাতেও সহযোগিতা অন্বেষণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার, ভুয়া তথ্যের ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতকরণ নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন। প্রফেসর ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভুয়া তথ্য প্রচারণা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের সমর্থন চাই। ভুল তথ্যের এই হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন। ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের সময় কোনও সত্যিকারের নির্বাচন ছিল না। এখন সাবেক স্বৈরশাসকদের সহযোগীরা আগামী নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশবিরোধী ভুল তথ্য প্রচারণায় অর্থায়ন করছে।’
প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তার সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের আগে বিশ্বব্যাপী সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করার জন্য ছয় রাজনৈতিক নেতা নিউইয়র্কে তার সঙ্গে রয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ তরুণ-তরুণী বাংলাদেশি ভোট দিতে আগ্রহী। তাদের অনেকে কখনও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।’
প্রধানমন্ত্রী শোফ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান অপব্যবহার এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, ‘এটি বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।’
বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন।