সারাদিনের কাজ শেষে ঘরে ফিরে ক্লান্তি দূর করতে একেক জন একেক পথ বেছে নেন। নাগরিক জীবনে নিজের যত্ন নেওয়ার কথা ভেবে সেটা যতটা না করেন, তারচেয়ে বেশি পরের দিনের জন্য নিজেকে ফিট রাখার জন্য।
তেমনই ঘরে ফিরে অনেকেই একটু গরম পানিতে পা ডুবিয়ে থাকেন। এতে পা পরিষ্কার থাকে, আরাম লাগে, সেই আরামে দিনের ক্লান্তিও দূর হয়। কিন্তু জানেন কি, এটা আপনার বড় ক্ষতিও করে ফেলতে পারে। সাময়িক আরামের জন্য এটা না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখার কিছু উপকার আছে ঠিকই— যেমন বিশ্রাম, ব্যথা উপশম, ক্লান্তি দূর। তবে নিয়মিত বা অতিরিক্তভাবে করলে কিছু ক্ষতিও হতে পারে।
সীমিত ব্যবহারে উপকারিতা
হালকা গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এতে পায়ের ক্লান্তি ও ব্যথা কমে। ক্লান্তি দূর হয়। রিল্যাক্সেশন দেয় কারণ স্ট্রেস কমে ও ঘুম ভালো হয়। এছাড়া গরম পানিতে হালকা লবণ দিলে ছত্রাক ও জীবাণু দূর হয়। ডেড স্কিন নরম হয়– পরে সহজে স্ক্রাব করা যায়।
তাই বলে ঘন ঘন এ কাজ করবেন না
রোজ এই আরামটা নিতে গেলে ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে/কারণ গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে নেয়। নিয়মিত করলে পায়ের ত্বক খসখসে, ফাটাযুক্ত হয়ে যেতে পারে। এমনকি ত্বকের প্রতিরক্ষা দুর্বল হতে পারে এবং প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার নষ্ট হলে সংক্রমণ (ফাংগাল ইনফেকশন) হতে পারে। যারা ডায়াবেটিক রোগী তাদের স্নায়ু সংবেদনশীলতা কমে গেলে, বুঝতে না পেরে পা পুড়িয়ে ফেলতে পারেন।
সপ্তাহে দুইবার করতে পারেন
প্রতিদিনের এই অভ্যাস বন্ধ করুন। সপ্তাহে দু’তিন দিন করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। খেয়াল রাখবেন পানি গরম না, হালকা গরম (লুকানওয়ার্ম) হতে হবে। সামান্য লবণ, বেকিং সোডা, অল্প ভিনেগার, অ্যান্টিসেপটিক মেশাতে পারেন। অবশ্যই ১০–১৫ মিনিটের বেশি রাখবেন না। এরপর স্ক্রাব করে পা ধুয়ে ভালো করে মুছে নিন। শেষে ময়েশ্চারাইজার বা ভ্যাসলিন লাগান। প্রতিদিন শুধু পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে পা ধুয়ে-মুছে রাখাই যথেষ্ট। যদি পা অতিরিক্ত ঘামে বা গন্ধ হয়, তবে ২ দিন পরপর ভিজিয়ে রাখতে পারেন। আবারও বলছি, ডায়াবেটিক রোগীরা গরম পানিতে পা ডুবানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।