সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আব্দুলআজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-শেখ ৮২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজ দরবারের ঘোষণার মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় আড়াই দশক ধরে তিনি সৌদি আরবের ধর্মীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তার মৃত্যুতে ইসলামি বিশ্বে এক যুগের অবসান হলো।
১৯৪০ সালের ৩০ নভেম্বর মক্কায় জন্ম নেওয়া শেখ আব্দুলআজিজ আল-শেখ সৌদি আরবের অন্যতম প্রভাবশালী আলেম ছিলেন। বিশিষ্ট আলেম পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই কোরআন ও ইসলামি শরিয়াহ অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেন। পরে ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করে বহু প্রজন্মের আলেম ও শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলেন।
১৯৯৯ সালে প্রয়াত গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আব্দুলআজিজ বিন বাজের উত্তরসূরি হিসেবে তাকে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি শরিয়াহ আইন ব্যাখ্যা, ফতোয়া প্রদান এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে ধর্মীয় নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
তার মৃত্যুতে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুলআজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাজ দরবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শেখ আব্দুলআজিজ আল-শেখের মৃত্যুতে সৌদি আরবসহ গোটা ইসলামি বিশ্ব একজন মহৎ আলেমকে হারালো, যিনি আজীবন জ্ঞান, ইসলাম ও মুসলমানদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আসরের নামাজের পর রিয়াদের ইমাম তুর্কি বিন আব্দুল্লাহ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদে নববীসহ দেশের সব মসজিদে গায়েবানা জানাজার নির্দেশ দিয়েছেন বাদশাহ সালমান।
গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে শেখ আব্দুলআজিজ আল-শেখ ইসলামি ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। শরিয়াহ আইন ব্যাখ্যা, ফতোয়া জারি এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রশ্নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করতেন। সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার অবস্থান ছিল ইসলামি ঐতিহ্য রক্ষা ও নতুন প্রেক্ষাপট বিবেচনার সমন্বয়।
তার নেতৃত্ব সৌদি আরব ছাড়িয়ে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ধর্মীয় ইস্যুতে তার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হতো। একই সঙ্গে তিনি আন্তধর্মীয় আলোচনায় অংশ নিয়ে ইসলামি মূল্যবোধ তুলে ধরতেন।
শেখ আব্দুলআজিজ আল-শেখের মৃত্যুর খবর সৌদি সীমান্ত ছাড়িয়ে ইসলামি বিশ্বে গভীর প্রভাব ফেলেছে। মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি ড. শাওকি আল্লাম এক শোকবার্তায় বলেছেন, তিনি ছিলেন জ্ঞানের বাতিঘর, যার দিকনির্দেশনা ইসলামের সেবা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রেখেছে।
সূত্র: সৌদি গ্যাজেট, টাইমস অব ইন্ডিয়া