গুইমারায় সারাদিন থমথমে পরিস্থিতি

গুইমারায় সারাদিন থমথমে পরিস্থিতি

খাগড়াছড়ির গুইমারায় সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সারাদিন থমথমে পরিস্থিতি ছিল। তবে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।

গুইমারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন আক্তার জানান, রবিবার গুইমারা উপজেলার রামেসু বাজার এবং আশেপাশের এলাকায় সংগঠিত হামলা ও পাল্টা হামলায় নিহত তিন জনের মরদেহ সোমবার স্বজনরা নিয়ে গেছেন।

তিন দিনের বেশি আটকে থাকা পর্যটকরা আজ বিকাল ৪টার দিকে সেনা-পুলিশ-বিজিবির কড়া নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ি ছেড়েছেন। তারা এখন বাড়ির পথে রয়েছেন। সেই সঙ্গে যাদের জরুরি কাজ আছে তারাও খাগড়াছড়ির বাইরে গেছেন। তবে এখনও ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়নি। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানালেন জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার।

এদিকে, খাগড়াছড়ি শহর ও স্বনির্ভর বাজার এলাকায় শনিবার পাহাড়ি ও বাঙালি ছাত্র-জনতার মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার বিকালে স্বনির্ভর বাজারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বিজিবি খাগড়াছড়ি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আব্দুল মোত্তাকিম।

তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রথম দিনেই (২৭ সেপ্টেম্বর) বিজিবির ৭টি প্লাটুন স্বনির্ভর বাজার ও চেঙ্গি স্কয়ার এলাকায় মোতায়েন করা হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে খাগড়াছড়ি শহর ও আশপাশের এলাকায় বিজিবির ৯টি প্লাটুন দিন-রাত সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। এ ছাড়াও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও ২টি প্লাটুন স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন– খাগড়াছড়ি ব্যাটালিয়নের (৩২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরান কবির উদ্দিন, খাগড়াছড়ি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার (৩২ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান এবং খাগড়াছড়ি সেক্টর সদর দফতরের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক ইউনুস আলী।

এদিকে, এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে গত কয়েকদিন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে জুম্ম ছাত্র-জনতা। তবে এর পেছনে ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বারবার বললেও এ বিষয়ে মুখ খোলেনি ইউপিডিএফ। তবে আজ সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউপিডিএফ মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেছেন, যারা অগ্নিসংযোগ করেছিল তারা আসলে ইউপিডিএফের কেউ নয়, দাঙ্গা বাঁধানোর উদ্দেশ্যে কতিপয় দুর্বৃত্ত মারমাদের দোকান-বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছিল। ইউপিডিএফ নেতা পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারের কাছে আট দফা দাবি জানান।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin