বাংলাদেশের জার্সি পরে মাহাদী হাসান এক বন্ধুকে নিয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করার মুহূর্তে ম্যাচ নিয়ে হিসেব-নিকেশ করছিলেন। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হংকংয়ের বিপক্ষে জিততে হলে কী করতে হবে- সেটাই ছিল আলোচনার বিষয়বস্তু। শুধু তাই না, জিততে না পারলে আজই বাছাই পর্ব পেরুনোর সম্ভাবনা যে শেষ হয়ে যেতে পারে, সেই শঙ্কাও ছিল। সেসব কিছু ছাপিয়ে কৃত্রিম আলোর নিচে ম্যাচ দেখতে দুপুরের পর থেকে দর্শকদের ভিড় ছিল মূল আকর্ষণ। নেতিবাচকতা ভুলে সবাই হামজা-জামাল-মিতুলদের জয় দেখার প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে এসেছেন।
ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামের প্রতিটি গেটেই একটু একটু ভিড় ছিল দেখার মতো। তবে এবার সিঙ্গাপুর ম্যাচের মতো রাস্তায় দর্শকদের সমাগম ছিল কমই। আলপনা এঁকে-জার্সি গায়ে পতাকা হাতে অনেকেই প্রিয় দলের খেলা দেখতে এসেছেন। এরমধ্যে হামজা চৌধুরীর জার্সি পরে কেউ কেউ এসেছেন। ফুটবল অন্তঃপ্রাণ মাহাদীর কথা শুরুতে বলা হয়েছিল। সেই মাহাদী হাঁটতে হাঁটতে বাংলাদেশের জার্সি পরে বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন, ‘আমি ও আমার বন্ধুরা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে এসেছি বাংলাদেশের জয় দেখতে। সিঙ্গাপুর ম্যাচে আমরা সুযোগ পেয়েও জিততে পারেনি। আজ জিততেই হবে। আশা করছি হামজা-জামালরা জিতবে। তবে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী, তাদের দলে ব্রাজিল-জাপানের খেলোয়াড় আছে। ভালো লড়াই হবে। তবে আমরা জিততে না পারলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তাহসিন হাসানের আজ ক্লাস নেই। সুযোগ পেয়ে ব্যাংকার ভাই আল আমিন ভূঁইয়ার সঙ্গে গ্যালারিতে খেলা দেখতে এসেছেন। মাঠে প্রবেশের আগে তাহসিন বললেন,‘আজ অনেক আশা নিয়ে খেলা দেখতে এসেছি। গত ম্যাচেও মাঠে ছিলাম। আমার মনে হয় আজকের ম্যাচে কঠিন লড়াই হবে। তবে হামজা-শমিতরা পয়েন্ট ছিনিতে আনতে পারবে।’
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68e7af4850e44" ) ); ফুটবলের টানে ১০ জন বন্ধু মিলে ফরিদপুর থেকে গাড়ি ভাড়া করে ঢাকায় এসেছেন। বাংলাদেশ-হংকং ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় সেই বন্ধুদের একজন মতিউর জানালেন, ‘অপেক্ষায় ছিলাম কবে টিকিট ছাড়বে। যেদিন টিকিট ছাড়লো, সেদিন আমরা বেশ কয়েকজন বন্ধু একসঙ্গে ল্যাপটপ নিয়ে বসি। ভাগ্য ভালো আমরা ১০টি টিকিট কাটতে পারি। এরপর থেকেই পরিকল্পনা করি কীভাবে ঢাকায় যাবো। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে টিকিট পাইনি বলে সেদিন হামজার খেলা মাঠে বসে দেখতে পারিনি। এবার সেই সুযোগটা হারাতে চায়নি বলেই এসেছি।’
শান্তিনগর থেকে বাংলাশে-হংকং ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে ছুটে এসেছেন শাহ আলম। যিনি আবার ঘরোয়া ফুটবলও মাঠে বসে দেখেন। তিনি বললেন, ‘আমি বাংলাদেশের সব খেলাই স্টেডিয়ামে বসে দেখি। এমনকি ঘরোয়া লিগের খেলাও মাঠে গিয়ে দেখি। আজকে (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশের জয় দেখতে এসেছি।’
শুধু বাংলাদেশের দর্শকরাই নন, এদিন গ্যালারিতে দেখা মিলেছে হংকং সমর্থকদের। ভিআইপি গ্যালারির নিচে এক দল দর্শকের সবাই লাল রংয়ের জার্সি পরে এসেছেন। গ্যালারির সামনে তারা পতাকা টানিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছিলেন। আর শুরুর দিকে একের পর স্লোগান তো ছিলই। রাত ৮টায় এখন উত্তেজক এক ম্যাচ দেখার অপেক্ষা।