চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানার আনন্দবাজার এলাকার সাগরতীর থেকে হাত-পায়ের রগ কাটা অবস্থায় শামীম মাকসুদ খান জয় (২৬) নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে আনন্দবাজার আউটার রিংরোড সংলগ্ন সাগরতীরে কাশবনের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
নিহত শামীম মাকসুদ খান জয় ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হন। বরিশাল জেলায় বাড়ি হলেও নগরের বন্দর আবাসিকের বড়পোল এলাকায় মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাস করতেন। কী কারণে কারা খুন করেছে, নাকি আত্মহত্যা, তা বলতে পারছে না পরিবার ও পুলিশ।
বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যায় সাগরতীরে কাশবনের ভেতরে হাত-পায়ের রগ কাটা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন শামীম। রাতে স্থানীয় কয়েকজন দেখতে পেয়ে টহলরত পুলিশ সদস্যদের খবর দেন। প্রথমে হালিশহর থানা পুলিশ উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে শামীমের লাশ শনাক্ত করেন স্বজনরা।’
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (বন্দর) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘শামীম নিজেই আত্মহত্যা করেছেন, নাকি কেউ ডেকে নিয়ে খুন করেছেন, নাকি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন—এসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। এখনও কোনও ক্লু পাওয়া যায়নি। পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। পরিবারও স্পষ্ট করে বলতে পারছে না, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে।’
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (বন্দর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যার দিকে চিৎকারের শব্দ পেয়ে কয়েকজন এগিয়ে যান। কিন্তু হাত-পায়ের রগ কাটা থাকায় তারা শামীমকে ধরেননি। পরে ঘটনাস্থল থেকে একজন ৯৯৯-এ কল করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে হালিশহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল বন্দর থানা হওয়ায় তাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। আমরা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, শামীমের কাছে ঘটনা জানতে চেয়েছিলেন তিনি। ক্যামেরাও বের করেছিলেন ভিডিও করবেন বলে। শামীম ক্যামেরার সামনে কিছু বলতে চাননি। ক্যামেরা বন্ধ করলে শামীম বলেন, ঘটনা নিজেই করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি এন্টি কাটার উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীর সেই বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত করে দেখছি।’