রাজধানীর হাতিরঝিলে ‘টেকসই নগর ও জনবসতির জন্য হাফ ম্যারাথন উৎসব ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিকল্পনাবিদ, উন্নয়ন ও পরিবেশ কর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে এই ম্যারাথনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নাগরিকদের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা, পার্ক-উদ্যান-খোলা জায়গা বাড়ানো ও বসবাসযোগ্য নগর গঠনের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
শনিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) এই হাফ ম্যারাথন ইভেন্ট আয়োজন করে।
টেকসই নগর গড়তে এই ম্যারাথনে শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ বিশেষ মাত্রা যোগ করে। ২১.১ কিমি হাফ ম্যারাথন, ৭.৫ কিমি, ৫ কিমি ও শিশুদের সঙ্গে কমিউনিটির ১ কিমি দৌড় ইভেন্টগুলো পরিকল্পনাবিদসহ হাজার খানেকের বেশি মানুষ অংশ নেন।
হাফ ম্যারাথনে ছেলেদের মধ্যে প্রথম হন আশরাফুল ইসলাম, দ্বিতীয় মো. এলাহী সরদার, তৃতীয় মো. সরদার এবং মেয়েদের মধ্যে প্রথম নুসরাত জাহান, দ্বিতীয় ফাতেমা আনজুম হাসান এবং তৃতীয় মোছাম্মৎ নাসরিন আক্তার।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সুস্থ জাতি গঠনে সুস্বাস্থ্যের কোনও বিকল্প নেই। ফলে এ ধরনের আয়োজন শহরে আরও বেশি প্রয়োজন। বিআইপির এই আয়োজন এর বিশেষত্ব হচ্ছে সমাজের সবাইকে এই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর গড়তে এর কোনও বিকল্প নেই। আমাদের নগরে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে প্রতিটি পাড়া মহল্লাতেই মাঠ, খোলা জায়গা, নাগরিক সুবিধাদির পরিকল্পনা করতে হবে। এজন্য পরিকল্পনাবিদদেরকেই কার্যকর নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘আমরা যদি আজ পরিকল্পিত নগরায়ন ও পরিবেশবান্ধব জনবসতির দিকে মনোযোগ না দিই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বসবাসের অনুপযোগী এক নগর উপহার দিতে হবে। টেকসই নগর মানে শুধু ভবন বা অবকাঠামো নয়, নগরে পরিকল্পিত উপায়ে পার্ক-উদ্যান-খোলা জায়গা তৈরি এবং নাগরিক অংশগ্রহণও এর মূল উপাদান। ঢাকাসহ অন্যান্য নগর এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় এসব বিষয়কে আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে টেকসই নগর ও জনবসতির পরিকল্পনার ধারণা নাগরিকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কাজ করবে বিআইপি।’ একইসঙ্গে টেকসই নগর ও জনবসতি গঠনে নাগরিকদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান বিআইপি সভাপতি।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত দৌড়বিদ ইমতিয়াজ এলাহি ও রাজীব হোসেন। উপস্থিত ছিলেন বিআইপির সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ সৈয়দ শাহরিয়ার আমিন, যুগ্ম সম্পাদক তামজিদুল ইসলাম, বোর্ড সদস্য আবু নইম সোহাগ, উসওয়াতুন মাহেরা খুশি, ফাহিম আবেদীন, সিদ্দিকুল আবেদিন হামীম প্রমুখ।