হল ছাড়ছেন অনেকে, কিছু শিক্ষার্থীর অনীহা

হল ছাড়ছেন অনেকে, কিছু শিক্ষার্থীর অনীহা

ভূমিকম্পের কারণে রবিবার (২৩ নভেম্বর) থেকে ১৫ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পর হল ছাড়তে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে কিছু শিক্ষার্থী অনীহা প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একে একে সব হল থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে হল ছাড়ার নির্দেশ ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে চলে যাচ্ছেন বাড়িতে আবার অনেকে বিভিন্ন কাজে থাকতে চাচ্ছেন হলেই। অপর একদল শিক্ষার্থী হল ছাড়তে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বাধ্যতামূলকভাবে হল ছাড়ার নির্দেশ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আছিয়া আক্তার রেমিজা ঢাবি প্রতিনিধিকে বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর বাড়ি যাওয়ার জায়গা নেই। যাদের বাড়ি শহরে, তাদের জন্য হল-ই তুলনামূলক বেশি নিরাপদ। এখানে তো সামনে খোলা মাঠ রয়েছে; বাসায় সেটাও নেই।

jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6922f4ec53699" ) );

তিনি আরও বলেন, অনেকের টিউশনি ও চাকরির কারণে হঠাৎ হল ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই ছুটিতে যার ইচ্ছা হলে থাকুক, যার ইচ্ছা বাড়ি যাক, এটাই হওয়া উচিত। বাধ্যতামূলক হল ছাড়ার নির্দেশ ছাত্রকল্যাণের নাম করে দেওয়া, এটা মানা যায় না। বরং এতে গভীর কোনও ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যায়।

হল ছাড়ার নির্দেশকে মানবিক সিদ্ধান্ত আখ্যা দিয়ে মহসিন হল প্রাধ্যক্ষ ড. মো. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষার্থীদের মতো তাদের অভিভাবকরাও ভীষণ উদ্বিগ্ন। তাই সকাল ৫টার মধ্যেই সবাইকে হল ছাড়তে বলা হয়েছে।

প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার বিষয়ে বেলা ১২টা ৯ মিনিটে বৈঠক চলছে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত হল ছাড়ার নির্দেশ বহাল থাকবে।

ঢাবির পরিবহন ম্যানেজার কামরুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষার্থীদের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে প্রায় সব রুটে ট্রিপ সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তবে রবিবার থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনও বাস সার্ভিস চালু থাকবে না।

jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6922f4ec536d8" ) );

এদিকে, ঢাকা ছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোতে যাতায়াতের সুবিধার্থে ডাকসুর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিতের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে রাতভর অবস্থান করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার রাতে আকস্মিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে তারা এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

এর আগে, শনিবার (২২ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, রবিবার বিকাল ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছেড়ে দিতে হবে। হলগুলো ঠিকঠাক করে পরে বিশ্ববিদ্যালয় আবার চালু করা হবে।

তিনি বলেন, হলের রুমে রুমে গিয়ে (ভূমিকম্পের কারণে হওয়া) ড্যামেজ অ্যাসেস করতে হবে। ইঞ্জিনিয়াররা বলেন, চার সপ্তাহ বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু আমরা বলেছি, দুই সপ্তাহ দেখি।

jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6922f4ec53710" ) );

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সারা দেশে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প অনূভূত হয়। এ ঘটনায় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় মারা গেছেন ১০ জন। আহত হয়েছেন কয়েকশ’মানুষ। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী। এর পর শনিবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ৩ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে একটি ভূ-কম্পন হয়; যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৭। এটির উৎপত্তি স্থল ছিল রাজধানীর বাড্ডা। পরে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, প্রায় একই সময়ে এক সেকেন্ডের ব্যবধানে আরও একটি কম্পন হয়েছে; যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী।

Comments

0 total

Be the first to comment.

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বদরুনন্নেসার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ BanglaTribune | শিক্ষা

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বদরুনন্নেসার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ

রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এবার উদ্বেগ জানিয়েছে...

Sep 23, 2025

More from this User

View all posts by admin