হংকংয়ের তাই পো জেলার একাধিক বহুতল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪৪ জনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জনের কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
নিহতদের মধ্যে একজন দমকলকর্মীও রয়েছেন। হংকং পুলিশ জানায়, আরও ৪৫ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আছেন।উত্তরের তাই পো জেলার ঘনবসতিপূর্ণ এই আবাসন কমপ্লেক্সে আটটি ব্লকে মোট দুই হাজার অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যেখানে চার হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ বাস করেন।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে আগুন লাগার পর সারা রাত চেষ্টা চালিয়েও দমকলকর্মীরা তীব্র তাপ ও ঘন ধোঁয়ার কারণে ওয়াং ফুক কোর্ট হাউজিং কমপ্লেক্সের ওপরের তলাগুলোতে আটকে থাকা বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে কর্তৃপক্ষ জানায়, চারটি ব্লকের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, বাকি তিনটিতে অভিযান চলছে।
হংকংয়ের প্রধান জন লি সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম অগ্রাধিকার হলো আগুন নিভানো ও আটকে থাকা বাসিন্দাদের উদ্ধার করা। দ্বিতীয় হলো আহতদের সহায়তা। তৃতীয় হলো পুনরুদ্ধার। এরপর আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করব।
তিনি জানান, ২৭৯ জনের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যায়নি এবং ৯০০ জনকে আটটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
৭১ বছর বয়সি এক বাসিন্দা, যিনি ওয়ং নামে পরিচিত, জানান তার স্ত্রী ভেতরে আটকা পড়ে আছেন—এ কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
৪০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্লক টু-তে বসবাসকারী ৬৬ বছর বয়সী হ্যারি চিয়াং জানান, দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি একটি বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনে কাছের একটি ব্লকে আগুন দেখতে পান।
দীর্ঘদিনের আরেক বাসিন্দা, চু নামের এক নারী জানান, পাশের ব্লকের বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করতে পারেননি। রাতে এক বন্ধুর বাসায় কাটানোর পর ফিরে এসে দেখেন তার বাড়িটি এখনও জ্বলছে।
ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, ৩২ তলা দুটি টাওয়ারে এখনও আগুন জ্বলছে। টাওয়ারগুলোকে ঘিরে থাকা বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং এবং সবুজ নির্মাণ জালের ভেতর দিয়ে ঘন ধোঁয়া আকাশে উঠছে।
পুলিশ জানায়, ভবনগুলোতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক মেশ ও প্লাস্টিক সামগ্রী অগ্নিনিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ নাও করতে পারে। পাশাপাশি একটি নিরাপদ ভবনের জানালায় ফোমের স্তর পাওয়া গেছে—যা রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে একটি নির্মাণ কোম্পানি বসিয়েছিল।
হংকং পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট আইলিন চুং বলেন, আমাদের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, নির্মাণ কোম্পানির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা গুরুতর অবহেলা করেছেন। যার ফলে আগুন অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, ওই কোম্পানির দুই পরিচালক ও একজন প্রকৌশল পরামর্শককে এই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হংকংয়ে অগ্নিকাণ্ডে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে, ১৯৯৬ সালের নভেম্বরে কাউলুন জেলার একটি বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৪১ জন নিহত হয়েছিলেন।
হংকং অগ্নিকাণ্ডে অনেকেই ২০১৭ সালে লন্ডনের ৭২ জন নিহত হওয়া গ্রেনফেল টাওয়ার ট্র্যাজেডির সঙ্গে সাদৃশ্য পাচ্ছেন। সে ঘটনায় ভবনের বহিরাংশে দাহ্য ক্ল্যাডিং বসানো কোম্পানি ও সরকারসহ নির্মাণ খাতকে দায়ী করা হয়েছিল।