ইনসুলিন নিলে ডায়াবেটিস রোগীর ওজন বাড়ে কেন

ইনসুলিন নিলে ডায়াবেটিস রোগীর ওজন বাড়ে কেন

অনেক ডায়াবেটিস রোগী ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে শুরু করার পরেই লক্ষ করেন যে, শরীরের ওজন বাড়তে শুরু করেছে। এটি অনেকের জন্য হতাশাজনকও হতে পারে, কারণ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে ওজন ঠিক রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এই ওজন বাড়ার পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।

১. শক্তি সঞ্চয়

ইনসুলিন আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা রাখে। খাবার খেলে আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যার একটা অংশ আমাদের যাবতীয় কাজকর্মে খরচ হয়। আর রক্তে থাকা অতিরিক্ত শর্করা যেন রক্তে মুক্ত অবস্থায় না থেকে কোষে সংরক্ষিত থাকে – এই দায়িত্বটি পালন করে ইনসুলিন। ইনসুলিন সেটিকে চর্বি হিসেবে সংরক্ষণ করতেও সহায়তা করে।

অর্থাৎ শরীরে শক্তি সঞ্চয় করে রাখে। এই কারণেই অনেক রোগী ইনসুলিন নেওয়ার পর ওজন বেড়ে যায়। কারণ তিনি হয়তো দরকারের চেয়ে বেশি শর্করা জাতীয় খাবার খাচ্ছেন, যা হাঁটাচলায় খরচ হচ্ছে না।

২. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব

মেডিকেল নিউজ টুডে–এর তথ্য অনুযায়ী, যেসব ডায়াবেটিস রোগী খাবার ও ব্যায়ামে নিয়ন্ত্রণে রাখেন না, তাদের মধ্যে ইনসুলিনের কারণে চর্বি জমার হার বেশি। কারণ খাবারের অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ না করলে ডায়াবেটিস রোগীর শরীরে ভারসাম্য রক্ষা হয় না।

৩. শরীরের মেটাবলিজম

তবে এটি শুধুমাত্র অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে নয়, বরং শরীরের মেটাবলিজম প্রক্রিয়ার পরিবর্তনের কারণেও হয়। ইনসুলিন কোষে শর্করার প্রবেশ বাড়ায়, এবং যদি শরীর তা ব্যবহার করতে না পারে, তাহলে সেটি সঞ্চিত চর্বিতে রূপান্তরিত হয়।

৪. শরীরে পানি জমা

ওজন বাড়ার আরেকটি কারণ হলো ইনসুলিন শরীরে পানি জমা করে রাখে। ফলে শরীরের টিস্যুগুলোতে পানি জমে এবং স্বাভাবিকভাবেই ওজন কিছুটা বৃদ্ধি পায়। এটি স্থায়ী নয় এবং সাধারণত পরিমিত ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়াম করলে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

৫. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

কিন্তু এই পরিবর্তনটি অনেকের ওপর মানসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। অনেক রোগী ইনসুলিন নেওয়া শুরু করার পর নিজের ওজন বাড়তে দেখে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। হার্ভার্ড হেলথ পাবলিকেশন–এর গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগও ওজন বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

প্রথমত, খাবারের পরিমাণ এবং টাইমিং নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ইনসুলিন নেওয়ার সময় অতিরিক্ত শর্করাযুক্ত খাবার এড়ানো এবং প্রোটিন, সবজি ও আঁশ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।

দ্বিতীয়ত, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম যেমন হাঁটা, সাইক্লিং বা যোগব্যায়াম শরীরে অতিরিক্ত শর্করা জমতে বাধা দেয়।

তৃতীয়ত, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোও খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল ওজন বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে।

এছাড়াও, ডাক্তার বা ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওজনের পরিবর্তন দেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনসুলিনের মাত্রা কমানো বা বন্ধ করা বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাত্রা সামঞ্জস্য করলে শরীরও ভালোভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।

সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিকেশন

এএমপি/এএসএম

Comments

0 total

Be the first to comment.

সামুদ্রিক মাছ কেন খাবেন Jagonews | লাইফস্টাইল

সামুদ্রিক মাছ কেন খাবেন

আপনি কি দিনভর অবসাদ, ঘুমের অস্বস্তি কিংবা চুল ঝরে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন? অল্প খেয়ে ওজন বাড়ছে? বা ত...

Sep 13, 2025

More from this User

View all posts by admin