ইন্টারনেট সংস্কৃতি বদলে দেওয়া ৩০ প্রতিষ্ঠান পেল ওয়েবি অ্যাওয়ার্ডস

ইন্টারনেট সংস্কৃতি বদলে দেওয়া ৩০ প্রতিষ্ঠান পেল ওয়েবি অ্যাওয়ার্ডস

ওয়েবের অস্কার হিসেবে খ্যাত ‘দ্য ওয়েবি অ্যাওয়ার্ডস’ ১৯৯৬ সাল থেকে ইন্টারনেটে শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়কে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। পুরস্কার প্রবর্তনের ৩০ বছর উপলক্ষে ইন্টারনেটের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ৩০টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়েবি অ্যাওয়ার্ডস। ‘দ্য ওয়েবি ৩০’ নামের এ তালিকায় এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম আছে, যারা গত তিন দশকে ডিজিটাল জগতে সৃজনশীলতা, যোগাযোগ-সংযোগ ও সংস্কৃতিতে পরিবর্তন এনেছে। তালিকায় অ্যাডোবি, অ্যামাজন, অ্যাপল, বিবিসি, বাজফিড, এইচবিও, গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, নেটফ্লিক্স, টিকটকসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

তালিকার বর্ণ অনুসারে প্রথমেই রয়েছে অ্যাডোবির নাম। অ্যাডোবি সম্পর্কে বলা হয়েছে, বর্তমান ওয়েবের চেহারা, গতি ও তৈরির পেছনে বেশ কিছু সরঞ্জাম তৈরি করে অ্যাডোবি ইন্টারনেট সংস্কৃতিকে আধুনিক রূপ দিয়েছে। ইউটিউবকে ব্রাউজারের ভেতরে নির্ভরযোগ্যভাবে ভিডিও চালাতে প্রথম সুযোগ করে দেয় অ্যাডোবি ফ্ল্যাশ। ২০১৩ সালে অ্যাডোবি ক্রিয়েটিভ স্যুট ক্রিয়েটিভ ক্লাউডে স্থানান্তর করা হয়। মেটা সম্পর্কে বলা হয়েছে, মেটা বিভিন্ন সামাজিক যোগযোগমাধ্যম তৈরি করেছে, যা কোটি কোটি মানুষকে যুক্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন আধেয় তৈরির সুযোগ দিচ্ছে। ইন্টারনেট সংস্কৃতি বিকাশে ভূমিকা রাখছে।

টিকটক সম্পর্কে ওয়েবি কর্তৃপক্ষ লিখেছে, টিকটক সৃজনশীলতা কীভাবে প্রকাশ করা যায়, তা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে। নতুন ট্রেন্ডের পাশাপাশি নতুন তারকাদের জন্ম দিয়েছে, যা অ্যাপের বাইরেও বেশ জনপ্রিয়। টিকটক সৃজনশীল ইতিহাসের সবচেয়ে পুরোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবিষ্কারের বিষয়টি সমাধান করেছে। শতাব্দী কাল ধরে বিভিন্ন শিল্পী ও অভিনয়শিল্পীরা তাঁদের কাজ দেখানোর জন্য অন্যদের ওপর নির্ভর করতেন। সেখানে টিকটক যে কারও জন্য দর্শক খুঁজে পাওয়ার সুযোগ করে দেয়। অনেক গায়ক মাত্র ১৫ সেকেন্ডের ক্লিপ আপলোড করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে গেছেন। কৌতুক অভিনেতা থেকে শুরু করে শিক্ষকেরা রাতারাতি বিশ্বব্যাপী অনুসারী তৈরি করছেন।

তালিকায় স্থান করে নিয়েছে উইকিপিডিয়াও। ২০০১ সালে বিশ্বের সব জ্ঞান ধারণ করার সহজ কিন্তু বিশাল লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে উইকিপিডিয়া। ওয়েবি অ্যাওয়াডর্স উইকিপিডিয়াকে ইন্টারনেটের সর্বজনীন স্মৃতি, যা সবাই লিখতে পারে বলে অভিহিত করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক, সম্পাদক ও পাঠকদের এক বিশাল কমিউনিটির মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্ম এখন শত শত কোটি মানুষের কাছে তথ্য পাওয়ার এক নির্ভরযোগ্য উৎস। উইকিপিডিয়ার মাধ্যমে একটি বৈশ্বিক জ্ঞানভান্ডার তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

সূত্র: ওয়েবি অ্যাওয়ার্ডস ডটকম

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin