পাঁচটি দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহম্মাদ রেজাউল করীম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
পাঁচ দফা দাবি হলো– জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন; নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি; সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা; গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ভারতীয় তাবেদার ও ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের বিচার করতে হবে এবং বিচার চলাকালীন তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
কর্মসূচি হলো– ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল; ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ ও ২৬ সেপ্টেম্বর সারা দেশে জেলা, উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল।
যদিও একইসময়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের সংবাদ সম্মেলনে জানান, এখনও যুগপৎ কোনও আন্দোলন বা কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়নি জামায়াত ইসলামী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুহম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে ১৪ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বর্ধিত মেয়াদও আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু এখনও জুলাই সনদ ঘোষণা করা যায় নাই। জুলাই সনদ নিয়ে অনেক বৈঠক হয়েছে কিন্তু আপনারা লক্ষ করলে দেখবেন, ভবিষ্যত স্বৈরতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার জন্য অপরিহার্য আইানি সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌছানো যায় নাই।
তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট মহল থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে বাধা এসেছে। ফলে জুলাইয়ের মূল প্রত্যাশা স্বৈরতন্ত্রকে চিরতরে বিলোপের যে চাহিদা তা পূরণে তেমন প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয় নাই। এমনকি অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে কোনও কোনও সংস্কারের প্রস্তাব জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত হলেও সেখানে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে এখনই সেটা বাতিলযোগ্য করে রাখা হয়েছে। ফলে জুলাই সনদ কার্যত সংস্কার সম্পর্কিত বিভিন্ন দলের মতামত দলীলে পরিণত হয়েছে। অথচ প্রত্যাশা ছিল জুলাই সনদ হবে আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণের দিকনির্দেশনা।
চরমোনাই পীর বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছাড়া নির্বাচন করা যায় না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনপ্রশাসনের আচরণ ও সন্ত্রাসের যে ভয়াবহতা আমরা লক্ষ করছি, তাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে আশ্বস্ত হতে পারছি না। এখানে মনে রাখতে হবে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড একটা মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ও বটে। লন্ডন বৈঠক, এককভাবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা ইত্যাদি বিষয়ে বর্তমান সরকার একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি যে পক্ষপাত দেখাচ্ছেন তাতে মাঠপ্রশাসন তাদের দিকে ঝুঁকে পড়াই স্বাভাবিক।