ঘোষিত পাঁচদফা দাবি পূরণে রাজধানীতে আরও সাতটি দলের সঙ্গে মিল রেখে সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম ও মহাখালীতে সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেছেন, ‘আগামী সংসদকে কোরআনের সংসদে পরিণত করতে দাড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। ইতোমধ্যে ছাত্ররা ভোটের মাধ্যমে বয়কট শুরু করছে। জনগণও সুযোগ পেলে নব্য ফ্যাসিবাদীদের ভোটের মাধ্যমে বয়কট করে ইসলামের পক্ষে এক নীরব বিপ্লব ঘটাবে।’
বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। কিন্তু পাকিস্তানের ২৪ এবং বাংলাদেশের ৫৪ মোট ৭৮ বছরে কোনও সরকার দেশে কোরআনের বিধান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেনি। অথচ পাকিস্তানে স্বপ্লদ্রষ্টা কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ হাতে কোরআন নিয়ে কোরআনকে পাকিস্তানের সংবিধান বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।’
‘কিন্তু তা কাজে পরিণত করেননি। স্বাধীনতার পর যারাই ক্ষমতায় এসেছেন, তারাও সংসদের কোরআনের আইন পাস করেনি। কিন্তু ইতোমধ্যেই আল্লাহর আইনের পক্ষে দেশে জনমত সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিকট অতীতে সেখানে দাঁড়ি, টুপি ও ইসলামী লেবাসধারীদের অপদস্ত করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ইসলামী আদর্শের ছাত্ররাই বিজয়ী হয়েছে।’
তিনি ছাত্রদের এ ঐতিহাসিক বিজয়কে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত টেনে নিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বিকাল সোড়ে ৪টায় রাজধানীর মহাখালির কলেরা হাসপাতালের সামনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও নভেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে গণভোট আয়োজনসহ ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দাবিতে গণমিছিল পূর্ব বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের ডা. ফখরুদ্দীন মানিক ও ইয়াছিন আরাফাত, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন,মুহিবুল্লাহ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য নাসির উদ্দীন প্রমুখ।
তিনি আগামী সংসদকে কোরআন সংসদে পরিণত করার জন্য দাড়িপাল্লার প্রতীকের গণজোয়ার সৃষ্টি করে সকলকে ময়দানে আপসহীন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন থেকে দলবাজদের তাড়িয়ে দিয়ে নিরপেক্ষ লোকদের দিয়ে জনপ্রশাসন পুনর্গঠন করতে হবে। জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি দিতে নভেম্বরেই গণভোট এবং সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করতে হবে। সোজা কথায় কাজ না হলে আমরা আঙ্গুল বাঁকা করলে কেউ পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না।’
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68f65a0ec2023" ) ); বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত পৃথক আরেকটি সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘নব্য ফ্যাসিবাদীদের প্রতিহত করতে জাতি অতীতের মতোই প্রস্তুত আছে।’ তিনি বলেন, ‘কোনও দল যদি নিজেদেরকে দেশের মালিক মনে করে থাকে, তবে তাদের উচিত হবে ডাকসু, জাকসু, চাকসু, রাকসু থেকে শিক্ষা নেওয়া। সবেমাত্র ছাত্ররা ভোটের মাধ্যমে বয়কট শুরু করছে। জনগণও সুযোগ পেলে নব্য ফ্যাসিবাদীদের ভোটের মাধ্যমে বয়কট করে ইসলামের পক্ষে এক নীরব বিপ্লব ঘটাবে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভেঅকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং ড. আব্দুল মান্নান। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে, বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল বিজয় নগর হয়ে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।