ইসরায়েলের কাছে আবারও অস্ত্র বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে জার্মানি। তবে গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর ওপর এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকার নির্ভর করবে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র সোমবার (১৭ নভেম্বর) বলেন, ২৪ নভেম্বর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে অস্ত্র বিক্রি শুরু করা হবে। তবে প্রতিটি চালান পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং স্থল পরিস্থিতি নজরে রাখা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পর ইসরায়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র রফতানিকারক জার্মানি। গাজা পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়তে থাকায় আগস্টে কিছু অস্ত্র রফতানি স্থগিত করা হয়। এই স্থগিতাদেশ মূলত গাজায় ব্যবহৃত হওয়ার মতো অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। তবে ইসরায়েলের বহিরাগত হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
অস্ত্র বিক্রি পুনরায় চালুর বিষয়ে আরেক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে আপাতত বহাল থাকা যুদ্ধবিরতির কারণেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। তবে, জার্মানির সিদ্ধান্ত বহাল থাকার শর্ত হচ্ছে, মানবিক সহায়তা বৃহৎ পরিসরে অব্যাহত থাকতে হবে এবং চুক্তি অনুযায়ী সুশৃঙ্খলভাবে এগোতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে স্থিতিশীল দ্বিরাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানে জার্মানি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং গাজার পুনর্গঠনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
ইসরায়েলের প্রতি জার্মান সরকারের দীর্ঘদিনের দৃঢ় সমর্থনের পেছনে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদিদের ওপর নাৎসি বাহিনীর গণহত্যার ঐতিহাসিক দায়বোধ বা “স্টাটস্রাসন”।
তবে, গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখেও অস্ত্র সরবরাহের কারণে জনগণের কাছে সমালোচনার মুখে পড়েন জার্মান সরকার। এমনকি, চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মারজ পর্যন্ত নিজ দলের ভেতরেই সমালোচনার মুখে পড়েন। এরপরই তিনি আগস্টে অস্ত্র সরবরাহ আংশিক স্থগিত করেন। সে সময় ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছিল।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালে ইসরায়েলের বড় অস্ত্র আমদানির ৩০ শতাংশ এসেছে জার্মানি থেকে, যার মধ্যে সা'আর–৬ শ্রেণির যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন নৌ-সরঞ্জাম রয়েছে, যা গাজা যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে।
এদিকে, জার্মানির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার এক্সে লিখেছেন, আমি অন্য দেশের সরকারকেও জার্মানিকে অনুকরণের আহ্বান জানাচ্ছি।
সিদ্ধান্তের পক্ষে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভাডেফুল বলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতিকে টেকসই বলেই মনে হচ্ছে। তাই সিদ্ধান্তটি দায়িত্বশীল ও সঠিক হয়েছে বলেই মন্তব্য করেন তিনি।