সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সিরিয়া নতুন যুগে প্রবেশ করছে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় আলোচনায় তার দেশ উন্মুক্ত। তবে তিনি সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা আপাতত নাকচ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ খবর জানিয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শারা বলেন, আল-কায়েদার সঙ্গে তার সম্পর্ক ‘অতীতের বিষয়’। তিনি দাবি করেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় তার কোনও ভূমিকা ছিল না। এটি ছিল তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় দেওয়া প্রথম বড় সাক্ষাৎকার।
ইসলামপন্থি সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শামের নেতৃত্বে গত বছর ক্ষমতা গ্রহণের পর শারার এটাই প্রথম ওয়াশিংটন সফর এবং প্রথমবারের মতো কোনও সিরীয় নেতা হোয়াইট হাউজ সফর করলেন।
সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শারা। বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, আমরা চাই সিরিয়া সফল দেশ হোক, আর আমি মনে করি এই নেতা তা করতে পারবেন।
শারা বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সিরিয়ার অবস্থা অন্যান্য আরব দেশের মতো নয়, যারা আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। সিরিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের সীমান্ত রয়েছে। আর ১৯৬৭ সাল থেকে গোলান মালভূমি দখলে রেখেছে ইসরায়েল।
সিরীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক হবে।
শারা বলেন, আমরা এখনই সরাসরি আলোচনায় যাচ্ছি না। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যস্থতায় হয়তো আমরা এমন আলোচনায় পৌঁছাতে পারব।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন আব্রাহাম চুক্তি সম্প্রসারণে উদ্যোগী হয়েছে। গত সপ্তাহে কাজাখস্তান চুক্তিতে যোগ দিয়েছে বলে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যদিও দেশটি ১৯৯২ সাল থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে।
রিয়াদে গত মে মাসে ট্রাম্প ও শারার বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আমি আশা করি, একদিন তোমরা আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেবে। জবাবে শারা বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ’।
সাক্ষাৎকারে শারা সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পরিণতি নিয়েও কথা বলেন। গত মাসে তিনি মস্কো সফরে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেন এবং আসাদের প্রত্যর্পণ চেয়েছেন বলে জানা গেছে। শারা বলেন, রুশদের ভিন্ন মত আছে, তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হতে হবে।
ওয়াশিংটন সফরে সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে, যা ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানে গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়াবে। তবে সরাসরি সামরিক অংশীদারত্ব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি বিষয়ে শারা বলেন, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতির কারণ আছে। তবে তা সিরীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ে হওয়া উচিত। আমাদের আইএসবিরোধী পদক্ষেপে একমত হতে হবে।
পেন্টাগনের তথ্যানুসারে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সংখ্যা ছিল দুই হাজারের কম, এর মধ্যে ৯০০ জন স্থায়ী এবং ১১০০ জন অস্থায়ী নিয়োগে। এ সংখ্যা আগামী মাসগুলোতে কমিয়ে ১ হাজারের নিচে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে শারা নিখোঁজ মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইসের বিষয়েও কথা বলেন। ২০১২ সালে দামেস্কের কাছে নিখোঁজ টাইসের পরিবারকে তথ্য দিতে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। শারা বলেন, আমি টাইসের মা ডেবরার সঙ্গে দেখা করেছি। তাঁর ও অন্য নিখোঁজ মার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে যতটা সম্ভব তথ্য দিতে আমি চেষ্টা করব।
২০১৯ সালে প্রণীত ‘সিজার সিরিয়া সিভিলিয়ান প্রটেকশন অ্যাক্ট’-এর কারণে সিরিয়ায় সহায়তা ও তদন্ত ব্যাহত হচ্ছে বলে সাবেক মার্কিন বন্দি ও নিখোঁজদের পরিবার কংগ্রেসে আইনটি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। এই আইন সিরীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত দুটি নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিয়েছে। তবে সম্পূর্ণ বাতিল করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।