ইসরায়েলকে কি নিষিদ্ধ করবে উয়েফা, ভোটাভুটি হতে পারে এ সপ্তাহেই

ইসরায়েলকে কি নিষিদ্ধ করবে উয়েফা, ভোটাভুটি হতে পারে এ সপ্তাহেই

কেউ বলছেন, ইসরায়েলকে উয়েফার প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করা হোক। কেউ আবার আন্তর্জাতিক খেলাধুলা থেকেই ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন। আপাতত পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তা হলো, খেলাধুলা থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবি ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে।

সর্বশেষ এ দাবি তুলেছেন নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি লিসু ক্লাভেনেস। তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েল ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এই সপ্তাহে ভোটাভুটির আয়োজন করতে পারে উয়েফা।

সম্ভাব্য এই ভোটাভুটি সামনে রেখে নরওয়ের পডকাস্ট ‘পপ অ্যান্ড পলিটিকস’-কে ক্লাভেনেস বলেছেন, ‘আদর্শিক জায়গা থেকে আমি বিষয়টি দেখছি। আমরা নিজেরা (ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ) বয়কট করব না। বয়কট করলে আমাদের বদলে ইসরায়েল বিশ্বকাপে যাবে। আমরা ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে কাজ করছি। আমরা বিশ্বাস করি, তাদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত, আর বিষয়টি হলো নিয়মকানুন অটুট রাখার। ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি, (ইউক্রেনে হামলা করায়) রাশিয়া যেহেতু নিষিদ্ধ, তাই ইসরায়েলেরও নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। ফুটবল সভাপতি হিসেবে ব্যক্তিগত মত থাকতেই পারে এবং আমার সেটা আছে।’

আগামী ১১ অক্টোবর অসলোয় নরওয়ের বিপক্ষে এবং ১৪ অক্টোবর উদিনেতে ইতালির বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচ খেলবে ইসরায়েল। উয়েফার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ‘আই’ গ্রুপে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ইসরায়েল। শীর্ষে থাকা নরওয়ের চেয়ে তারা ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে, দ্বিতীয় দল যাবে প্লে-অফে।

নরওয়ে ফুটবল সভাপতি ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলার আগে এ নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন অনেকেই। ৫০ জন সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড় মিলে সই করা একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফায়। দাবি একটাই—উয়েফার প্রতিযোগিতা থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করা হোক। এ খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন ফ্রান্সের ফুটবল তারকা পল পগবা থেকে ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেট অলরাউন্ডার মঈন আলী।

শুধু তাই নয়, এর আগে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইসরায়েলকে খেলাধুলায় নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন। তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম হাজিওসমানোউলুও ফিফা, উয়েফা ও জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর প্রধানদের কাছে চিঠি লিখে ইসরায়েলকে ফুটবল প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠার কারণও নিশ্চয়ই সবার জানা? চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বলেছিল, গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে। ইসরায়েল অবশ্য নিয়মিতভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল সামরিক বাহিনী। এর পর থেকে গাজায় অন্তত ৬৫ হাজার ৪১৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

অবশ্য ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়ানোর দেশও আছে। যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন সুরে কথা বলছে। গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানায়, ২০২৬ বিশ্বকাপে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা ঠেকাতে তারা কাজ করবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবিসি স্পোর্টসকে বলেন, ‘ইসরায়েলের জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার কোনো চেষ্টা যেন সফল না হয়, সে জন্য আমরা অবশ্যই কাজ করব।’

রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলকে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করতে এ সপ্তাহে জরুরি ভোটাভুটির প্রস্তুতি নিচ্ছে উয়েফা। কিন্তু একই দিন স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ জানায়, এ মুহূর্তে সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিনের নেতৃত্বে উয়েফার নির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি নেই। তবে এ বিষয়টি গত কয়েক দিন ধরে আলোচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে একই গ্রুপে পড়া নরওয়ে ও ইতালি ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin